শিরোনাম
◈ বিরোধী দলের ওয়াকআউট পরিকল্পিত, আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ, ১৭ ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি ◈ আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ ◈ ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি ◈ আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন দেখভালের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ◈ এবার সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ পড়লেন গাজী নজরুল ইসলাম ◈ সংসদে বিল উত্থাপন : গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ◈ বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী ◈ গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল, নভেম্বরে ভোট: সিইসি

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস, নিহত বেড়ে ৮; তিন দিনে প্রাণহানি ২১

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজখানার ওপর পাহাড় ধসে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় আরো ৫ থেকে ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

নিহতদের মধ্যে ৭ জনই শিশু, তারা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহত অপর একজন ওই মাদ্রাসার (প্রাপ্তবয়স্ক) শিক্ষক। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ঐ মাদ্রাসায় ৪০ জনেরও বেশী শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুরে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ মাদ্রাসাটির ওপর পাহাড়ধস হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল  ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত কক্সবাজার। জেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে চলছে মাইকিং। এ পর্যন্ত পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা সহ ২২ জনের মৃত্যু। পর্যটকদের সাগরে না নামার নির্দেশনা।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষ্মীচর ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন, মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও বড় মহেশখালী ইউনিয়ন, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও রাজারকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জেলার লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ব্লক এ-৩ এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হিফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুরে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ মাদ্রাসাটির ওপর পাহাড়ধস হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (১৪ এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়াগেছে,তারা হলেন,  ক্যাম্প-৫-এর এ-১১ ব্লকের বাসিন্দা রাশিদা বেগম (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ-১ ব্লকের বাসিন্দা উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), এবং ক্যাম্প-৫-এর এ-৮ ব্লকের বাসিন্দা উমাইসা বিবি (১৩)। বাকী ৪ জনের নাম পাওয়া যায়নি।

আহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আসরা (৯), ক্যাম্প-৩-এর এফ-১ ব্লকের বাসিন্দা বেগম জান (১৫) এবং ক্যাম্প-৫-এর এ-৭ ব্লকের বাসিন্দা ফারেসা বিবি (১২)।

কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ৮ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ৫ থেকে ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

স্থানীয় রোহিঙ্গা যুবক মো. ইদ্রিস জানান, পাহাড়ধসের সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে হঠাৎ মাদ্রাসা ভবনের ওপর পড়ে। কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও অধিকাংশ কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জন নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

তরুণ রোহিঙ্গা ফটোগ্রাফার ইয়াসিন আব্দু মোনাব বলেন, “ক্যাম্প-৫-এর একটি কমিউনিটি বালিকা মাদ্রাসায় ভয়াবহ ভূমিধসের সময় প্রায় ৫০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ১০ জন তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, আনুমানিক ৪০ জন ছাত্রী কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অন্যান্যদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।”

এর আগে গত রবিবার রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। 

মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও রেজু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার শহরসহ জেলার কয়েকটি এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলে ফিরে এসেছে এবং প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সঙ্গে নৌযোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের সমুদ্রে না নামার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

অব্যাহত বর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়  ৮ ও ৯ জুলাইয়ের সব পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়া এলাকায় রেললাইনের ওপর পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।

গত তিন দিনে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১৩ জনসহ জেলায় মোট ১৮জনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক ঘটনায় ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুরও মৃত্যু হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানিয়েছেন, টেকনাফের সাথে সেন্ট মার্টিনের সরাসরি নৌ যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। দ্বীপে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, কয়েক দিন ধরেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আজও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন,আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।অতিবৃষ্টির কারণে পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সকল উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখা হয়েছে উপজেলাগুলোতে। সবগুলো আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ