শিরোনাম
◈ খালেদাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুই কর্মকর্তা হঠাৎ দৃশ্যপটের বাইরে ◈ মে‌সির দাপ‌টে বড় জয় ইন্টার মায়া‌মির ◈ ইরা‌নের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো শত্রুর দিকে তাক করে রাখা হয়েছে: অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ◈ ইং‌লিশ লি‌গে দারুণ এক জয় পে‌লো ম‌্যান‌চেস্টার সি‌টি ◈ হামে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, সমালোচনা এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কম দেখাচ্ছে ◈ গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ট্রাক জ্বালিয়ে দিল জনতা ◈ সান্ডারল‌্যা‌ন্ডে হোঁচট খে‌লো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ◈ বিশ্বকাপে মে‌ক্সি‌কো‌তে এক মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি দেওয়া হবে ◈ আজ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন থালাপতি বিজয়, উপস্থিত থাকবেন রাহুল গান্ধী ◈ শুভেন্দুর নেতৃত্বে আস্থা, প্রশংসায় শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬, ১০:১৪ দুপুর
আপডেট : ১০ মে, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ করতে বড় সংস্কার পরিকল্পনা, শুরু হয়েছে প্রাথমিক কাজ

ঢাকাকে ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এরইমধ্যে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পার্ক ও খেলার মাঠ সংস্কার এবং লেক ও চারপাশের নদীগুলো পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

নগর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেন, অতিরিক্ত জনাকীর্ণ রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে অঙ্গীকার, এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।

তারা জানান, এই কাজ বাস্তবায়নের জন্য দুই সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার, বন বিভাগ ও রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছ। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছে, তবে পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

রাজধানীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি করতে আগে থেকেই বিএনপির পরিকল্পনা আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারীর মো. সাইমুম পারভেজ। 

তিনি টিবিএসকে বলেন, 'বায়ুদূষণেরে দিক থেকে ঢাকার অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। এয়ার ইনডেক্স খুব খারাপ। এটাকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আমাদের একটা প্রচেষ্টা আছে।' 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, 'ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা' শুধু স্লোগান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; একে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে ছয়টি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে: ময়লা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা, শহরজুড়ে গাছ লাগানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, এই দায়িত্বের অর্ধেক সিটি করপোরেশনের আর বাকি অর্ধেক জনগণের।

'সে কারণে আমরা জনসচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন কর্মচারীরা যাতে ঠিকমতো কাজ করেন, সেটার ওপর জোর দিচ্ছি,' বলেন তিনি। 

আবদুস সালাম আরও বলেন, 'এই বর্ষা মৌসুমে আমরা ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে, প্রত্যেকটা জায়গায় গাছ লাগাব।  এতে শহর আরও সবুজ হবে, শহরের বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করবে।'

'ক্লিন এবং গ্রিন সিটি'

গত ২৯ এপ্রিল ঢাকাকে 'ক্লিন এবং গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। 

তারেক রহমান বলেন, রাজধানীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

রাস্তা দখলমুক্তকরণ

ঢাকার অধিকাংশ রাস্তা ও ফুটপাত বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে। অবৈধ পার্কিং, হকার ও যত্রতত্র ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রীর কারণে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় হকারদের নিবন্ধন, ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মোট ৩০২ জন হকারকে পুনর্বাসন ও ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়েছে। 

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর মিরপুর এলাকার ২০২ জন ও ঢাকা দক্ষিণ গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের জন্য ডিজিটাল আইডি কার্ড দিয়েছে। 

এছাড়াও রাজধানীতে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ করে পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। 

সূত্র জানায়, ঢাকায় ইলেকট্রিক যানবাহন চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ করে পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

বৃক্ষরোপণ

কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকার সব ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগানো হবে। এতে শহরের বায়ুদূষণ কমাবে, সৌন্দর্যও বাড়বে। এছাড়া শহরে সবুজের বিস্তার ঘটবে।

জলাধার পুনরুদ্ধার

ঢাকার লেক ও চারপাশের নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিদিন শিল্পকারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। 

একইভাবে হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেকসহ বিভিন্ন লেকও দূষণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির রং কালচে হয়ে গেছে, দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। এই দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি। 

এই সমস্যা সমাধানে রাজধানীর লেক পুনরুদ্ধার ও পানির মান বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। 

কর্মকর্তারা মনে করেন, লেক পুনরুদ্ধার করে মাছের চাষ করা যেত পারে। লেক সংস্কার করা হলে আশপাশের মানুষের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এটি নগরবাসীদের বিনোদন ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে। ঢাকার চারপাশের চারটি নদী পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে রাখা হয়েছে। 

নদী পুনরুদ্ধারে পানির মান উন্নয়ন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দুই তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে মানুষের চলাচল ও অবকাশ যাপনের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

যদিও এসব বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে পরিকল্পনা পর্যায়ের রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা

জলাবদ্ধতা এখন ঢাকার নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট, অলিগলি এমনকি আবাসিক এলাকাগুলোও তলিয়ে যায়। এতে যানজট যেমন বাড়ে, তেমনি চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। 

এছাড়া অনেক জলাধার ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

ফলে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সম্পুর্ণ ঢাকায় একটু শক্তিশালী ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। 

খেলার মাঠ ও পার্ক

ঢাকা শহরে খেলার মাঠ ও পার্কের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক মাঠ দখল, নির্মাণকাজ কিংবা অব্যবস্থাপনার কারণে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান অনেক পার্ক ও মাঠই ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনা, কোথাও ভাঙা সরঞ্জাম, আবার কোথাও নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

খেলার মাঠ ও পার্কের পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নতুন নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৪০টি নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। 

পাশাপাশি এসব মাঠে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রাথমিক উদ্যোগ

ঢাকার দুই সিটি সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ শুরু করেছে। 

শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে 'ক্লিনিং ডে' হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ। গত ৪ মে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ৯ মে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে 'ক্লিনিং ডে' উদযাপিত হবে। 

রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত করতে এক বছর সময় চান ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক। তিনি বলেন, 'এক-দুই মাসে খালগুলো একটা পর্যায়ে আনা কঠিন। আমি যদি থাকি, তাহলে এক বছরে খালগুলো একটা পর্যায়ে আনব ইনশাআল্লাহ।' 

৩০ এপ্রিল কাকরাইল মসজিদ মোড়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়কে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

এ সময় আবদুস সালাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' গড়ার স্বপ্নের অংশ হিসেবে এই সড়কটিকে একটি 'আইডিয়াল ও মডেল রাস্তা' হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। 

প্রকল্পের প্রথম ধাপে এই সড়কে বিভিন্ন আকৃতির ৫৪টি নান্দনিক ফুলের টব স্থাপন করা হয়েছে। এসব টবে বাগান বিলাস, রঙ্গন, অলকানন্দা, পোর্টুলিকা ও কামিনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন ফুলগাছ লাগানো হবে। 

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়