শিরোনাম
◈ কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ৫ ◈ রাশিয়া যা পারল না তা করে দেখাল চিন: তাইঝৌ ডেস্ট্রয়ারের পুনর্জন্ম, মিনিটে ছুড়বে ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ◈ “চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার: সমুদ্র থেকে ইউরেনিয়াম শিকারে ‘প্রিডেটর’ ম্যাটেরিয়াল” ◈ বিএনপি ছেড়ে নেতাদের স্রোত, দুই মাসেই চাপে সরকার, রাজপথে সক্রিয় বিরোধীরা ◈ জামিন পেলেন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা লাভলু ◈ গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন আর হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ এবার রাজশাহীর সরকারি কলেজের জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষক বরখাস্ত ◈ প্রণোদনার ওপর কর প্রত্যাহারের দাবি বিটিএমএ’র ◈ ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত রাখার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আ‌মিনুল হ‌কের ◈ ৮০ লাখ ব্যক্তি রিটার্ন দেয়নি, তালিকা করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিশ যাবে

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১৯ বিকাল
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আশির দশকের ইরাক-ইরান যুদ্ধ যেভাবে আজকের ইরানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে

১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন সাদ্দাম হোসেন ইরান আক্রমণের নির্দেশ দেন, তখন তিনি ভেবেছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান দখল করবেন। কিন্তু সেই সংঘাত স্থায়ী হয়েছিল দীর্ঘ আট বছর, যা প্রাণ কেড়ে নেয় ১০ লক্ষাধিক মানুষের। 

সেই ঘটনার চার দশক পর এসে বিশ্লেষকরা এখন বলছেন, সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধই মূলত বর্তমানের ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’-কে আজকের রূপ দিয়েছে। 

‘যুদ্ধ একটি রহমত’

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের বিশৃঙ্খল সময়ে সাদ্দামের আক্রমণ ছিল তৎকালীন আয়াতুল্লাহ খোমেনির জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক ঢাল। খোমেনির একটি বিখ্যাত উক্তি তখন শহরের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পেত— ‘যুদ্ধ একটি রহমত।’

প্যারিসভিত্তিক ইরানি বিরোধী নেতা বেহরুজ ফারাহানির মতে, একটি একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য যুদ্ধ হলো ভিন্নমত দমনের শ্রেষ্ঠ অজুহাত। এই যুদ্ধের আড়ালে খোমেনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী এবং মধ্যপন্থীদের নির্মূল করে কট্টরপন্থী আলেমদের শাসনব্যবস্থাকে নিষ্কণ্টক করেছিলেন। 

বর্তমান ইরানের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের প্রায় সবারই উত্থান হয়েছে সেই ইরান-ইরাক যুদ্ধের ময়দানে। তাই বলা যায়, ইরাক-ইরান যুদ্ধ ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। 

এই যেমন, সেই যুদ্ধে ইরানের হয়ে অংশ নেওয়া কাসেম সোলেইমানি পরবর্তীতে আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের প্রধান হন। তার মৃত্যুর পর এই দায়িত্বে আসেন বর্তমান প্রধান ইসমাইল কানি। 

আরেকজন হলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যিনি কূটনীতিতে আসার আগে আইআরজিসি-র যোদ্ধা ছিলেন। দেশটির বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, যিনি যুদ্ধের ময়দান থেকে উঠে এসে এখন ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক। 

আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা ও ভূগর্ভস্থ সমরকৌশল 

যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরান ছিল প্রায় বন্ধুহীন। তখন পশ্চিমা বিশ্ব এবং অধিকাংশ আরব দেশ সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিল। ইতিহাসবিদ মজিয়ার বেহরুজ বলেন, ‘সেই সময় ইরান উপলব্ধি করেছিল যে বাইরে থেকে কেউ তাদের সাহায্য করতে আসবে না।’

এই উপলব্ধি থেকেই ইরান আজ ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। সাদ্দামের বিমান হামলা থেকে বাঁচতে ইরান তখন থেকেই তাদের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের গভীরে বা ভূগর্ভে সরিয়ে নিতে শুরু করে। আজকের দিনে আমেরিকা বা ইসরাইলি আক্রমণ সত্ত্বেও ইরানের মিসাইল ব্যবস্থা সচল থাকার পেছনে সেই পুরনো সমরকৌশলই মূল শক্তি। 

সামরিক ভ্রাতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি

ইতিহাসবিদ পেয়মান জাফরির মতে, আট বছরের যুদ্ধ আইআরজিসি কমান্ডারদের মধ্যে একটি ‘ইস্পাতকঠিন ভ্রাতৃত্ব’ তৈরি করে দিয়েছে। 

যুদ্ধ শেষে এই কমান্ডাররা কেবল সেনানিবাসে ফিরে যাননি, বরং দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছেন। ফলে পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে পুরো ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার যে পরিকল্পনা করে আসছে, তা প্রায়ই ব্যর্থ হয়; কারণ দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত সুসংগঠিত ও বহুমুখী। 

অমীমাংসিত অভ্যন্তরীণ সংকট 

অবশ্য এই যুদ্ধ বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করতে শেখালেও ইরানের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দূর করতে পারেনি। 

বিশ্লেষকদের মতে, দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। অর্থনৈতিক সংকটের ফলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক কড়াকড়ির কারণে জনগণের একটি বড় অংশ বর্তমান ব্যবস্থার ওপর বীতশ্রদ্ধ। 

সবশেষে বলা যায়, সাদ্দাম হোসেনের সেই আক্রমণ ইরানকে ধ্বংস করতে না পারলেও একে একটি দুর্ভেদ্য সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তবে বর্তমানে চলমান সংঘাতের মধ্যেও কি সরকার সেই পুরনো ‘যুদ্ধের আশীর্বাদ’ তত্ত্ব দিয়ে অভ্যন্তরীণ জনরোষ সামাল দিতে পারবে? উত্তরটি হয়তো ভবিষ্যৎ রাজনীতির গর্ভেই লুকায়িত। 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই অবলম্বনে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়