সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতের ম্যাজিয়ার। প্রেসিডেন্ট তামাশ সুয়োক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের মিত্র।
৪৫ বছর বয়সী ম্যাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট তামাশ সুয়োকের সঙ্গে তাকে দেখা যায়। স্যানডোর প্রাসাদে হাঙ্গেরি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা।
ম্যাজিয়ার ওই পোস্টে প্রেসিডেন্টকে ট্যাগ করে তার কড়া সমালোচনা করে লেখেন, 'হাঙ্গেরীয় জাতির ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করার অযোগ্য তিনি। আইনের রক্ষক হিসেবেও তিনি বেমানান। এমনকি আদর্শ নেতা হওয়ার কোনো যোগ্যতাই তার নেই।'
ম্যাজিয়ার আরও লেখেন, 'নতুন সরকার গঠনের পরপরই তামাশ সুয়োককে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।'
তবে সুয়োক পদত্যাগ না করলে কী হবে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন ম্যাজিয়ার। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদ না ছাড়লে তার দল বিপুল জনমতের জোরে সংবিধান ও আইন সংশোধন করবে। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, অরবানের নিয়োগ দেওয়া অন্য 'পুতুলদেরও' ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
ম্যাজিয়ার আরেকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী অরবান একা একা পাশের একটি ব্যালকনিতে পায়চারি করছেন আর ম্যাজিয়ার ও তার দল সেটি দেখছেন। ভিডিওতে দুই হাত দিয়ে ফ্রেম বানিয়ে ম্যাজিয়ারকে বলতে শোনা যায়, 'অ্যাবসোলিউট সিনেমা'। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল লিনকিন পার্কের বিখ্যাত গান 'হোয়াট আই হ্যাভ ডান'।
গত রোববারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় ম্যাজিয়ারের দল তিসা পার্টি। এর মধ্য দিয়ে অরবানের ১৬ বছরের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। ম্যাজিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আটকে থাকা শত শত কোটি ইউরোর তহবিল ছাড় করাতেই এই উদ্যোগ নেবেন তিনি।
নির্বাচনে বিজয়ী এই নেতা জানান, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি তার মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে। এত বছরের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্রুত বাতিল করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার লক্ষ্য, আগস্টের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইইউর মহামারি তহবিলের প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো নিশ্চিত করা।