শিরোনাম
◈ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে হবে: জামায়াত ◈ বাংলাদেশ থেকে আনারস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার ◈ ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়লেই গ্রাহককে যখন-তখন ফোন ও হুমকি দেওয়া যাবে না: আরবিআইয়ের কঠোর নীতিমালা ◈ সৌদিকে ঘিরে ইরানি মিত্রদের সমন্বিত হামলার শঙ্কা, লক্ষ্যবস্তু জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দর ◈ ‘আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ’, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা ◈ রোম বিমানবন্দরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, দুর্ভোগে আড়াই শতাধিক যাত্রী ◈ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল জনতার, কোনো রাজনৈতিক দলের নয় : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ◈ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমিত বাণিজ্য শুরু, প্রাণ ফিরছে টেকনাফ স্থলবন্দরে ◈ অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুলিশের ◈ আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার সাফ চ‌্যা‌ম্পিয়নশীপ খেল‌তে আসছে 

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৭ রাত
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে ‘নাটক’: ফাঁস হলো ভুয়া পরিচয় ও সাজানো প্রমাণের কারখানা

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা ব্যবস্থাকে ঘিরে এক বিস্ময়কর প্রতারণার জাল উন্মোচিত হয়েছে গোপন অনুসন্ধানে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া ওয়েবসাইট, সাজানো রাজনৈতিক বিক্ষোভ, মিথ্যা পরিচয়—এসব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এক ‘ফেক অ্যাসাইলাম ইন্ডাস্ট্রি’। এই প্রক্রিয়ায় কিছু পরামর্শদাতা ও আবেদনকারী মিলে নকল প্রমাণপত্র তৈরি করে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর: বিবিসি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আশ্রয়ের আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নানা ধরনের মিথ্যা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ নিজেকে সমকামী, কেউ নাস্তিক বা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যদিও বাস্তবে তাঁদের কেউ এমনটি নন। এই কাজে সহায়তা করছেন কিছু তথাকথিত আইনজীবী ও পরামর্শদাতা, যাঁরা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে আবেদনকারীদের ‘প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছেন।


বিবিসি জানায়, পূর্ব লন্ডনের একটি অফিসে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে এমনই এক পরামর্শ সেশনে অংশ নিয়েছিলেন একজন সাংবাদিক। সেখানে নিজেকে ব্যারিস্টার পরিচয় দেওয়া জাহিদ হাসান আখন্দ নামের এক ব্যক্তি আশ্রয় পাওয়ার তিনটি সম্ভাব্য পথ তুলে ধরেন। এই তিনটি পথ হলো—সমকামী পরিচয়, নাস্তিকতা বা রাজনৈতিক সক্রিয়তা।

ছদ্মবেশে থাকা অনুসন্ধানী ওই সাংবাদিককে জাহিদ আখন্দ জানান, আশ্রয় আবেদনে আইনি সহায়তার জন্য ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড ফি লাগবে। তবে সফল হতে হলে আবেদনকারীকে নিজেই ‘প্রমাণপত্র’ তৈরি করতে হবে।


নাস্তিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে জাহিদের পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম বা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দিতে হবে, যাতে ধর্মীয় ব্যক্তিরা হুমকি দেয়। তিনি বলেন, ‘এভাবে আপনার প্রমাণ আপনাকেই তৈরি করতে হবে।’ এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের কিছু ব্লগ বা ম্যাগাজিনে অর্থের বিনিময়ে লেখা প্রকাশ করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এমনকি এসব লেখা তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যেমন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার পরামর্শও দেন জাহিদ।

রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথকে তুলনামূলক কঠিন বলে উল্লেখ করে জাহিদ আখন্দ জানান, সমকামী পরিচয় দেওয়াই সহজ। এ ক্ষেত্রে ভুয়া ক্লাবের সদস্যপদ, সাজানো সম্পর্ক এমনকি একজন ‘নকল সঙ্গী’ পর্যন্ত জোগাড় করে দেওয়া হয়, যারা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকেন। তিনি বলেন, ‘ঠিকভাবে প্রমাণ তৈরি করতে পারলে সবাই সফল হচ্ছে।’

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জাহিদ আখন্দ বৈধভাবে আইনচর্চার অনুমোদনপ্রাপ্ত নন। নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দেওয়াও আইনত তাঁর অপরাধ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন সংস্থাও জানিয়েছে, জাহিদ তাদের কর্মী নন এবং বহু আগে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে গেছেন।

এই প্রতারণা কেবল জাহিদ আখন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আরেক বাংলাদেশি আইনজীবীর সহায়তায় বহু ভুয়া আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব আবেদনে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ভুয়া সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ। তদন্তে দেখা গেছে, এসব ওয়েবসাইট একই নেটওয়ার্ক দ্বারা তৈরি এবং সেগুলোতে প্রকাশিত তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

কিছু ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছে, আশ্রয় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা হয়েছে; কিন্তু এর কোনো সত্যতা যাচাই করা যায়নি। আবার কিছু নিবন্ধে সমকামী বিয়ে ও এর কারণে সামাজিক নির্যাতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মনগড়া।

এ ছাড়া সাজানো রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের শুধু ছবি তোলার জন্য এসব বিক্ষোভে আনা হয়। এমনকি কিছু আবেদনকারীকে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মিথ্যা মানসিক অসুস্থতা বা এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ভান করতে বলা হয়েছে, যাতে মেডিকেল রিপোর্টকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে কীভাবে আচরণ করতে হবে, কীভাবে কাঁদতে হবে—এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এক আবেদনকারী জানান, তাঁর আইনজীবী তাঁকে সাক্ষাৎকারে কাঁদার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি অবশ্য এটি ভালোভাবে করতে পারেননি।

এই পুরো চিত্রটি যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপব্যবহারের একটি গুরুতর দিক তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি উন্মোচিত করেছে, কীভাবে কিছু অসাধু চক্র মানবিক একটি প্রক্রিয়াকে ব্যবসায় পরিণত করেছে, যেখানে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করে ফেলা হচ্ছে। অনুবাদ: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়