বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবহন হয়, সেই হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত স্থবির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়ার দাবি করলেও আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটা বলছে- এই পথে জাহাজ চলাচল এখনও নামমাত্র।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জাহাজ চলাচল করছে। এর আগে গত রোববার ট্রাম্প জানান, ইরান আরও ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
বাস্তবতা হলো- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান জলপথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
মেরিন ট্রাফিক এবং শিপিং ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ৩টি জাহাজ তাদের ট্র্যাকার অন রেখে এই প্রণালি পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। 'লুইজা' নামের তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার হরমুজ পার হয়েছে ৪টি জাহাজ, তার আগের দিন পার হয়েছে ৬টি। এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি জাহাজ পার হয়েছে গত শনিবার। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে।
গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার এবং মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বর্তমানে ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ চলছে। অনেক জাহাজই নিরাপত্তার খাতিরে তাদের অনবোর্ড ট্র্যাকার বন্ধ করে চলাচল করছে। ফলে ঠিক কতটি জাহাজ আসলে পার হচ্ছে, তার প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: বিবিসি