বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সঙ্গী আলমগীর হোসেন রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অধীনে থাকা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) নজর এড়িয়ে ওই দুই অভিযুক্ত ভারতে কীভাবে প্রবেশ করলো?
তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দুষ্কৃতদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বিজেপির শরিক সরকার ক্ষমতায় আছে।
তিনি বলেন, অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
অরূপ চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পথে আসাম এবং ত্রিপুরা পড়ে। এই দুই রাজ্যেই বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।
দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর অধীন বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুষ্কৃতরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দুষ্কৃতদের জন্য একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, শুধু হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়। ফলে রাজ্যটি একটি ‘সেফ হ্যাভেন’র পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় চারশ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিদ্রযুক্ত বা দুর্বল সীমান্ত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্ত সংক্রান্ত জমি যেভাবে দেওয়া হয়েছে, তাতে বিএসএফ সন্তুষ্ট নয়।