শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নবাদী শাসনের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে: দাবি ইরানের ◈ প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজকের মুদ্রার রেট: ৫ মার্চ ২০২৬ ◈ ইমাম খামেনেয়ীর নেতৃত্ব ইরানকে একটি শক্তিশালী মার্কিন বিরোধীতায় পরিণত করেছেন: রয়টার্স ◈ পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছুটি আরও একদিন বাড়িয়েছে সরকার ◈ যুদ্ধ ছড়িয়েছে ১৫ দেশে, অস্থির পুরো বিশ্ব ◈ যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই খাদ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় তেহরানের বাসিন্দারা ◈ রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে যাচ্ছে জুলাই সনদ ◈ পার‌লো না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ১০ জনের নিউক্যাসলের বিপক্ষে হেরেই গেলো ◈ পাকিস্তান টেস্ট দলের কোচ হ‌চ্ছেন সরফরাজ আহ‌মেদ ◈ ইরানে ‘সিরিয়া কৌশল’ প্রয়োগ, গৃহযুদ্ধ বাধানোর ছক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ০৯:১২ সকাল
আপডেট : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন ইরানের ‘শাহেদ ড্রোন’ হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

রানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও লঞ্চারগুলোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে। তবে ইরানের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন ‘শাহেদ’ এর মাধ্যমে আক্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, সমন্বিত ও মোতায়েনের জন্য বড় অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু শাহেদ ড্রোন একটি গ্যারেজে সমন্বিত করা যেতে পারে এবং একটি পিকআপ ট্রাকের পেছন থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। এতে ইরান হয়ত অনির্দিষ্টকাল নতুন শাহেদ ড্রোন উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ চালিয়ে যেতে পারবে।

যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন, উৎক্ষেপণ ও কমান্ড অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য গৃহীত সামরিক কৌশল এবং পদক্ষেপগুলো অব্যাহত রাখা হবে, তা সত্ত্বেও অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনী শাহেদ ড্রোন হামলার মুখোমুখি হতে পারে।

হুমকি : কম খরচ, অসংখ্য, নির্ভুল  

শাহেদ ড্রোন ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম নৌবহরের ঘাঁটিতে এ ড্রোন হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া কুয়েতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি লজিস্টিক ক্যাম্পে এবং সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি আঘাত হেনেছে শাহেদ ড্রোন। বাহরাইনের ঘাঁটিতে এ ড্রোন দিয়ে একাধিকবার হামলা করা হয়েছে।

ফোর্বসের খবরে আরও বলা হয়, ইরানের একটি ড্রোন কাতারের এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডারে আঘাত হেনেছে। এটি ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাকিং সিস্টেম। এ ছাড়া ইরানি ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষিত নয় এমন তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিতে শুরু করেছে।

এসব ঘটনায় শাহেদ ড্রোনের সক্ষমতা সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে বলা যায়, দীর্ঘ পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলায় এটি কার্যকর। এটি একটি নির্দিষ্ট ভবনে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে সক্ষম।

শাহেদ-১৩৬ মডেলের ড্রোনগুলোর ডানা সাত ফুটের। এটি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ মাইল গতিতে ছুটতে পারে এবং ৯০ পাউন্ডের ওয়ারহেড বহন করে। ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি খুবই ছোট একটি অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ১০০০ পাউন্ডের। শাহেদ ড্রোনগুলো সঠিক প্রকৃত অর্থে ক্ষতি করতে সক্ষম।

যুদ্ধের ময়দানে প্যাট্রিয়ট ও মার্কিন নৌবাহিনীর ‘স্ট্যান্ডার্ডের’ মতো কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর, তবে এর সরবরাহ খুবই কম। রাশিয়া প্রতি মাসে হাজার হাজার শাহেদের মতো ড্রোন উৎক্ষেপণ করে। আলাবুগার একটি বিশাল কারখানায় এসব ড্রোন উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক উৎপাদন মূল্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। 

ইরান এ পর্যন্ত কত সংখ্যক শাহেদ ড্রোন মজুত করেছে এবং প্রতি মাসে কতটি উৎপাদন করতে পারে, এ বিষয়ে তথ্য নেই। বেশিরভাগ ড্রোন হয়ত ভূপাতিত করা হবে, কিন্তু কিছু ড্রোন পার হয়ে যাবে এবং আঘাত হানতে পারবে। যতক্ষণ উৎক্ষেপণ চলতে থাকবে, ততক্ষণ এসব ড্রোন ক্ষতি করবে।

উৎপাদন বিকেন্দ্রীভূত

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান ড্রোন উৎপাদন বিকেন্দ্রীকরণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা পেয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ড্রোন উৎপাদনের জন্য প্রচুর যন্ত্রপাতি ও বড় ধরনের স্থাপনার প্রয়োজন হয় না। এই প্রক্রিয়াটি ছোট নৌকা তৈরির মতোই। সাধারণ শাহেদ ড্রোনের ইঞ্জিনটি হলো ইরানের তৈরি মাডো এমডি-৫৫০। এটি জার্মানির লিম্বাচ এল৫৫০ই থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা দুই-স্ট্রোক, চার-সিলিন্ডার পিস্টনের ইঞ্জিন। এ ড্রোনগুলোকে ‘মোপেড’ নামেও ডাকা হয়। এগুলোর ওয়ারহেড তৈরিও কোনো সমস্যা নয়। ইউক্রেনে পাওয়া রাশিয়ার ছোড়া শাহেদ ড্রোনের বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড পাওয়া গেছে। যেখানে দেখা যায়, কিছু ফেলে দেওয়া বা অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র থেকে প্রাপ্ত বর্জ্য থেকে সংগ্রহীত জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে।

শাহেদ ধরনের ড্রোন গ্যারেজে উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ইলেকট্রনিক্স। গ্যারেজে বসে অত্যাধুনিক, জ্যাম-প্রতিরোধী স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম তৈরি কররা যায় না। তবে ইরান ও রাশিয়া সবসময়ই অন্য কোনো দেশ থেকে এই উপাদানগুলো সংগ্রহ করে এসেছে, চোরাচালান করেছে বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পেয়েছে।

সাইপ্রাসে ছোড়া একটি শাহেদ ড্রোনে আয়ারল্যান্ডের কোম্পানি তাওগ্লাসের অ্যান্টেনা মডিউল ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন পাওয়া গেছে। ইউক্রেনেও এই মডেলের শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা ও বিশ্লেষকরা জানান, রাশিয়া যে শাহেদ ড্রোনগুলো ব্যবহার করে তা প্রায় সম্পূর্ণ পশ্চিমা দেশগুলোর উপাদান থেকে তৈরি, যার মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট কন্ট্রোলার, নেভিগেশন এবং অন্যান্য উপাদান।

ফোর্বসের খবরে বলা হয়, ইরান প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স উপাদান মজুত করে রাখতে পারে। আরও উপাদান দেশটিতে পাচার হতে পারে। 

বিকেন্দ্রীভূত উৎক্ষেপণ

শাহেদ ড্রনের জন্য বিশেষায়িত লঞ্চার যানের প্রয়োজন হয় না; সাধারণত একটি ডিসপোজেবল রকেট বুস্টারের সাহায্যে এগুলোকে বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একসঙ্গে একাধিক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা যায়। এগুলো একটি পিকআপ ট্রাকের পেছন থেকেও উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে, যা ড্রোনটিকে নিক্ষেপ করার আগে উড্ডয়নের গতি তৈরি করে। রাশিয়া এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে।

যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির অস্ত্র

ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বড় মূল্য চুকাতে হবে। শাহেদ এবং অন্যান্য ড্রোনের অবিরাম নিক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুতকে নিঃশেষ করে দেবে। এরপর কী হবে তা একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন।

রাশিয়া থেকে ছোড়া শাহেদ ড্রোনের ঢেউ ঠেকাতে ইউক্রেন প্রচুর কম দামের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে, তবে সম্ভবত তারা কিছু একটা করার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। ইউক্রেনের মতো ড্রোন ধ্বংসের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হলে উচ্চ-শক্তির লেজার এবং কম দামের এপিকেডব্লিউএস ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অন্যান্য ব্যবস্থাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকরা বহু বছর ধরেই দূরপাল্লার, কম খরচের স্ট্রাইক ড্রোনের হুমকির কথা উল্লেখ করে এসেছেন। এখন মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব অবশেষে এই সমস্যাটির সমাধান করতে বাধ্য হবে। তবে বর্তমানে ইরান ড্রোন যুদ্ধের পথেই হাঁটছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

সূত্র: এনটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়