মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’-কে সোনালি রঙের কফিনে দাফন করেছে তাঁর পরিবার। ৫৯ বছর বয়সী এই কার্টেল প্রধান ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ম্যাক্সিকান বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে অভিযান চালালে তাঁর দেহরক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবিসি জানিয়েছে, ওসেগুয়েরা ছিলেন ভয়ংকর জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্য থেকে বিস্তৃত হয়ে এক শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়। মাদক উৎপাদন ও পাচারের মাধ্যমে তারা বহু অঙ্গরাজ্যে প্রভাব বিস্তার করে।
মেনচো ছিলেন মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্ডেট ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য দিলে দেড় কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মেনচোর মৃত্যুর পরপরই প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে কার্টেল সদস্যরা। প্রায় ২০টি অঙ্গরাজ্যে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। জালিস্কোর গুয়াদালাহারা শহরের কাছে মেনচোর বর্ণাঢ্য জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে তাই সেখানে বিপুলসংখ্যক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়।
শেষ বিদায়ের আগে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেন্দ্রটি ফুলে ফুলে সুশোভিত হয়ে ওঠে। মোরগ লড়াই ভালোবাসতেন মেনচো। তাঁর এই অনুরাগের ইঙ্গিত হিসেবে একটি মোরগ আকৃতির বিশাল ফুলের সাজও দেখা যায়।
এএফপি জানিয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে এত পরিমাণ ফুল পাঠানো হয়েছিল যে, সেগুলো কবরস্থানে নিতে পাঁচটি ট্রাকের প্রয়োজন হয়। এসব শ্রদ্ধাঞ্জলির অধিকাংশই পাঠানো হয়েছিল কারও নাম প্রকাশ না করেই।
শবযাত্রায় ব্যান্ডদল র্যাঞ্চেরা সংগীত ও মাদক সম্রাটদের প্রশংসায় রচিত গান ‘নারকোকরিদোস’ বাজায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঐতিহ্যবাহী গান ‘এল মুচাচো আলেগ্রে’ বাজানোর মধ্য দিয়ে মেনচোর সোনালি কফিনটি কবরস্থানের ভেতরের একটি চ্যাপেলে আনা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুখোশ পরা বহু শোকাহত ব্যক্তি কফিনটি কবর পর্যন্ত অনুসরণ করেন। তবে অন্য মাদক সম্রাটদের জাঁকজমকপূর্ণ সমাধির তুলনায় তাঁর কবরস্থানটি ছিল তুলনামূলক সাদামাটা।
বিশেষ বাহিনীর হাতে মেনচোর নিহত হওয়াকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার দমনে মেক্সিকোর সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মেনচোর মৃত্যুর পর তাঁর নেতৃত্ব দেওয়া কার্টেল সিজেএনজি-তে ক্ষমতার লড়াই শুরু হতে পারে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে মেক্সিকোতে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা