ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কিয়েভে সরকারি সদর দফতরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন। জেলেনস্কির মতে, পুতিনকে থামাতে হলে তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কোনও বিকল্প নেই।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে দেন যে ইউক্রেন এই যুদ্ধে হারবে না, বরং বিজয়ী হয়েই শেষ করবে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং কৌশলগত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবিকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ডনেস্ক অঞ্চলের ২০ শতাংশ এবং খেরসন ও জাপোরিজ্জিয়ার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে এসব ভূমি ছেড়ে দেওয়া ‘যুক্তিসঙ্গত’ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, “আমি বিষয়টিকে কেবল ভূখণ্ড হিসেবে দেখি না। আমি একে আমাদের অবস্থান দুর্বল করা এবং সেখানে বসবাসরত লাখো মানুষকে পরিত্যাগ করা হিসেবে দেখি। এই ‘পিছু হটা’ আমাদের সমাজকে বিভক্ত করে ফেলবে।”
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, পুতিন এখন সাময়িক বিরতি চাইছেন কেবল শক্তি সঞ্চয়ের জন্য। জেলেনস্কির মতে, দুই-তিন বছরের মধ্যে শক্তি ফিরে পেয়ে পুতিন আবারও হামলা শুরু করবেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আসন্ন যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনের উচিত দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনের ওপরই বেশি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হয়। এমনকি ট্রাম্পের অনুগতরা জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে হেসে জেলেনস্কি বলেন, “আমি স্বৈরাচারী নই এবং আমি এই যুদ্ধ শুরু করিনি।” ট্রাম্পের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ব্যক্তি পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে যায়। আমাদের এমন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন যা মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে এবং ৩০ বছর স্থায়ী হবে।”
ইউক্রেনে ২০২৪ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সামরিক আইনের কারণে তা স্থগিত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে নির্বাচনের দাবি তুললেও জেলেনস্কি জানান, আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “আপনারা কি আমাকে সরিয়ে দিতে চান নাকি সত্যি নির্বাচন চান? যদি নির্বাচনই চান, তবে এমনভাবে আয়োজন করতে হবে যা ইউক্রেনের জনগণ ও বিশ্ববাসী বৈধ বলে মেনে নেয়।”
বিজয় বলতে জেলেনস্কি কী বোঝেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজয় মানে কেবল ভূখণ্ড ফেরত পাওয়া নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং পুতিনকে থামানো। তিনি মনে করেন, পুতিন কেবল ইউক্রেনে থেমে থাকবেন না, তিনি পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তারা অংশীদারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো উন্নত অস্ত্র তৈরির লাইসেন্স এখনও ইউক্রেনকে দেওয়া হয়নি।
সাক্ষাৎকারের শেষে জেলেনস্কি ইংরেজিতে বলেন, পুতিনকে থামানোই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। দাবার চালের মতো বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সাফল্যের পথ খুঁজছেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ঈশ্বর সহায় হোন, আমরা সফল হবই।”