শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:১৫ সকাল
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে রাষ্ট্রীয় অর্থে আয়োজিত হিন্দুত্ববাদী অনুষ্ঠানে ‘মুসলিম সমাজ সরিয়ে দেওয়ার’ ডাক

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের অনুদান ব্যবহার করে মুসলিম সমাজকে ‘সরিয়ে দেওয়া’ (রিমুভাল) করার ওপরে জোর দিয়ে ডিসেম্বর মাসে একটি অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) আওতায় আবেদন করে এমন তথ্য জানা গেছে।

নিজেদের সনাতন হিন্দু বলে দাবি করে গোয়ার একটি সংস্থা আয়োজিত ‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব’-এর জন্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ৬৩ লাখ রুপি দিয়েছিল বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘দ্য কুইন্ট’। তাদের প্রতিবেদনটি ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিতও হয়েছে।

‘দ্য কুইন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ‘মহোৎসব’ অনুষ্ঠানে বক্তারা ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান এবং ভারতের ২৫ শতাংশ মুসলিমকে ‘সরিয়ে দেওয়া’ এবং সেই সঙ্গে মুসলিমদের ‘গণধর্মান্তর’ ও ‘গণ-বিতাড়ন’-সহ বিভিন্ন উসকানিমূলক দাবি উত্থাপন করেন।

ভারতে সাম্প্রদায়িকতা এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও মতামত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মারফত ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে ‘দ্য কুইন্ট’ একটি অনুসন্ধান চালায়, যার নাম ‘আনকভারিং হেট’।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ‘দ্য কুইন্ট’ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) একটি আবেদন জমা দেয়।

জবাবে ভারত সরকারের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তারা গোয়ার পোন্ডার রামানাথি গ্রামের সনাতন আশ্রমের সনাতন সংস্থাকে ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব’ আয়োজনের জন্য ৬৩ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় ‘দ্য কুইন্ট’কে জানিয়েছে, জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতেরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে। তারা আরও যোগ করেছে, ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই।

অনুষ্ঠানে বিদ্বেষমূলক ভাষণ এবং ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার ডাক দেওয়ার খবর সামনে আসার পর এ অর্থায়ন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সিপিআইএমএল (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বিষয়টির সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসবে’ বেশ কয়েকজন বক্তা মুসলিম সমাজকে নিশানা করে ব্যাপক জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাঁদের মধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রচারমাধ্যম ‘সুদর্শন টিভি’র প্রধান সুরেশ চহ্বান দাবি করেন, বর্তমানে ভারতের ২৫ শতাংশ মুসলিম পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী।

সুরেশ বলেন, এসব মুসলিমকে ‘ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়ার’ জন্য এনআরসি (জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন) পুরোপুরি কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, মুসলিম জনসংখ্যার সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিজেপির উগ্রপন্থী নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় সরাসরি ‘সরকারের তরফে ভয়ে দেখিয়ে’ মুসলিমদের হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রস্তাব দেন।

অশ্বিনী হিন্দুদের সক্রিয়ভাবে মুসলিমদের ধর্ম পরিবর্তনে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, যদি ‘প্রত্যেক হিন্দু একজনকে ধর্মান্তরিত করে’, তবে একটি বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে। তিনি আরও পরামর্শ দেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা তাঁদের কর্মীদের ধর্মান্তরিত হতে প্রভাবিত করতে পারেন।

‘দ্য কুইন্ট’-এর সম্পাদক আদিত্য মেনন এ অনুষ্ঠানে অর্থায়নের সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ইস্যুটি এটা নয়, ৬০ লাখ রুপি বড় না ছোট অঙ্ক। প্রশ্ন হলো, কেন করদাতার টাকা এমন একটি কর্মসূচিকে সমর্থন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে একটি সম্প্রদায়কে ‘নির্মূল’ করার ডাক দেওয়া হয়েছে।

আদিত্য মেনন আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন জনসাধারণের টাকা এমন একটি অনুষ্ঠানে ব্যয় করা হবে, যে কর্মসূচি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী কাজ করছে।

সূত্র: প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়