শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জোড়া বিদেশ সফর, ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ◈ বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরুজ্জীবনে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ◈ ২৪ জেলার চিত্র বদলে দেবে পদ্মা ব্যারাজ ◈ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যেসব ঘটনায় আলোচনায় ◈ মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বাংলাদেশেই : প্রধানমন্ত্রী ◈ কিশোর–কিশোরীদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না’ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনার ভেন্যুর শহরে বন্যা, সতর্কতা জারি ◈ দেশের স্বার্থেই কূটনৈতিক সফর, কারও মন জোগাতে নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩৩ সকাল
আপডেট : ২০ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডে সেনা বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক: ট্রাম্পের দখলের হুমকির মুখে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি

ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের পর সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যম ও ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বড় একটি যুদ্ধজাহাজ ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সৈন্য গ্রিনল্যান্ডের কাঙ্গারলুসুয়াক শহরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে সোমবার সন্ধ্যায়। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারে ‘একটি বিশাল অবদান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে ডেনমার্কের এই পদক্ষেপকে। 

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আগ্রাসী মন্তব্যের পর আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডেনমার্ক সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে। ইতোমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ প্রায় ১০০ জন ডেনিশ সৈন্য অবস্থান নিয়েছেন এবং সমপরিমাণ সৈন্য কাঙ্গারলুসুয়াক অঞ্চলেও মোতায়েন করা হয়েছে। ডেনিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেনারা ‘আর্কটিক এনডুরেন্স’ নামক একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। যদিও ট্রাম্পের মন্তব্যের পর এই মহড়াকে পূর্বনির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আনা হয়েছে এবং পরিধিও আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছাকে সমর্থন করছেন না দেশটির বেশির ভাগ মানুষ। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণের বড় অংশই এই উদ্যোগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপ অনুযায়ী প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে একজনেরও কম গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাকে সমর্থন করছেন। একই জরিপে প্রতি দশজনের একজন মনে করেন প্রয়োজনে এ লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আবারও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে এই অবস্থান মার্কিন জনমতে তেমন ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারেনি। জরিপে আরও দেখা গেছে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের প্রশ্নে মার্কিন জনগণের মধ্যে তুলনামূলক কম মতভেদ রয়েছে। একইভাবে বিশ্বজুড়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারে ট্রাম্পের আগ্রহ নিয়েও বড় ধরনের বিভাজন নেই। রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার একটি অভিযানের এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দ্বীপটির নেতারা ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ন্যাটোর আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে হোয়াইট হাউস সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সূত্র: জনকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়