ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও তাদের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ ঘোষণায় জানায়, লেবানন, জর্ডান ও মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে 'ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন (এফটিও)' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে—যা সবচেয়ে কঠোর শ্রেণিভুক্তি। এর ফলে সংগঠনটিকে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে ট্রেজারি বিভাগ জর্ডান ও মিশরের শাখাগুলোকে 'বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী' হিসেবে ঘোষণা করেছে, অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা হামাসকে সহায়তা করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, এই ঘোষণাগুলো মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কার্যক্রম যেখানেই ঘটুক, তা প্রতিহত করার ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সূচনা নির্দেশ করে। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদে জড়িত হওয়া বা সহায়তা দেওয়ার জন্য এসব সংগঠনের সম্পদ ও সক্ষমতা ধ্বংসে সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে এই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা অবশ্য দাবি করেছেন, তারা সহিংসতা পরিহার করেন।
নির্বাহী আদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, লেবাননের শাখার একটি অংশ হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার পর ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছিল, যা গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। এছাড়া আদেশে বলা হয়, জর্ডানের শাখার নেতারাও হামাসকে সহায়তা দিয়েছেন।
মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯২৮ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৩ সালে দেশটিতে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জর্ডানও মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক নাথান ব্রাউন বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট হতে পারে।
তিনি বলেন, যেসব দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহ্য করা হয় বা অনুমতি দেওয়া হয়, সেসব সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এটি কাঁটার মতো বিঁধে থাকবে-এর মধ্যে কাতার ও তুরস্কও রয়েছে।
ব্রাউন আরও বলেন, এই শাখাগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ ও কানাডায় প্রবেশকারী ব্যক্তিদের ভিসা ও আশ্রয়প্রার্থনা (অ্যাসাইলাম) আবেদনেও প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, এতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সন্দেহ করার আরও শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব ব্যক্তি এই দেশে থাকতে চান বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ আদালতগুলো কম প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। ডানপন্থী প্রভাবক লরা লুমারের মতো কয়েকজন প্রভাবশালী ট্রাম্প সমর্থক তার প্রশাসনের কাছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
চলতি বছর রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত দুই অঙ্গরাজ্য—ফ্লোরিডা ও টেক্সাস—মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।