শিরোনাম
◈ আজ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিশ্বকাপে খেল‌তে না পারার হতাশা কাটিয়ে উঠছে ক্রিকেটাররা, বল‌লেন কোচ সিমন্স ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় নতুন কৌশল নিচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কা ◈ অর্থ সংকট থাকলে সরকার বন্ড দিতে পারে: বিআইপিপিএ ◈ সরবরাহ সংকট কাটেনি, তেল নেই অনেক পাম্পেই ◈ যুদ্ধের ছায়া প্রবাসজীবনে, দেশে উদ্বেগে পরিবার ◈ বেসরকারি ৪ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ◈ ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে আরও পাঁচ প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ◈ মিরপুরের পিচের প্রশংসা কর‌লেন পাকিস্তানি কোচ মাইক হেসন 

প্রকাশিত : ০৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
আপডেট : ০৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চেনাব নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ইস্যুতে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

জম্মু-কাশ্মিরের চেনাব নদীতে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি ভেঙে সিন্ধু এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত নদীগুলোর ওপর কোনো প্রকার দখলদারিত্ব বরদাস্ত করবে না ইসলামাবাদ।

চেনাব নদীর যে অংশটি জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে, ভারতে সেটির নাম চন্দ্রভাগা।সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের কিস্তওয়ারে চন্দ্রভাগা নদীর উপর ২৬০ মেগাওয়াটের দুলহস্তি স্টেজ-২ প্রকল্পের জন্য সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষপর্বে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি ৪৫তম বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুমানিক ৩২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের  জন্য টেন্ডার নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। তার মধ্যেই হুঁশিয়ারি এল ইসলামাবাদ থেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন, “সম্প্রতি আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি যে ভারত চেনাব নদীর জম্মু-কাশ্মির অংশে দুলহস্তি স্টেজ ২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। অবশ্যই এই সংবাদ উদ্বেগের, কারণ ভারত থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের ব্যাপারে আমাদের কোনো তথ্য জানায়নি।”

“ভারত যদি সত্যিই  সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তিতে লিখিত ‘সীমাবদ্ধ অনুমতির’ চরম অপব্যবহার এবং সিন্ধু চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। আমরা বরাবরই বলে আসছি যে এ চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের যে বিবাদ রয়েছে, তা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করতে চাই; কিন্তু ভারত যদি পরিকল্পিতভাবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে কিংবা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থে আঘাত করে— সেক্ষেত্রে ইসলামাবাদ তা কখনও বরদাশত করবে না।”

প্রসঙ্গত, টানা ৯ বছর আলোচনার পরে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু। সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি) ও শতদ্রু (সতলেজ়)-র জলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে, পশ্চিমমুখী সিন্ধু (ইন্দাস), চন্দ্রভাগা (চেনাব) ও বিতস্তার (ঝিলম) জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত।

সূত্র : ডন, দ্য টেলিগ্রাফ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়