সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভয় চৌতালাকে বলতে শোনা যায়, ‘শ্রীলঙ্কার মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমেছিল কিংবা বাংলাদেশ ও নেপালের যুবসমাজ যেভাবে সরকারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভারতেও ঠিক সেই একই কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।’
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভারতের বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদলের (আইএনএলডি) প্রধান অভয় সিং চৌতালা। তাঁর এই মন্তব্যকে ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ ও ‘সংবিধানের ওপর আঘাত’ বলে আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে বিজেপি।
চৌতালার এই মন্তব্যের প্রতিবাদে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, এই ধরনের বক্তব্য বিরোধী নেতাদের ‘সংবিধানবিরোধী’ ও ‘ভারতবিরোধী’ মানসিকতার প্রতিফলন। পুনাওয়ালা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদিকে ঘৃণা করতে করতে বিরোধীরা এখন আম্বেদকরের সংবিধান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরই আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতেও দ্বিধাবোধ করছে না।’
বিজেপির আরেক মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত ভারতবিরোধী প্রচারের অংশ। তিনি রাহুল গান্ধীসহ অন্য বিরোধী নেতাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তাঁরা ভারতের রাজনৈতিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
হরিয়ানার ক্যাবিনেট মন্ত্রী কৃষাণ বেদিও চৌতালার কড়া সমালোচনা করেছেন। চৌতালা পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রবীণ নেতা হয়ে কীভাবে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এমন কথা বলতে পারেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ভাষা ভারতের রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশকে কলুষিত করছে।