শিরোনাম
◈ ইলিয়াস আলী গুম: ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত ◈ ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা ◈ ওয়ান-ইলেভেনের তিন কুশীলব ডিবি হেফাজতে: মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরোচ্ছে নতুন তথ্য ◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫১ দুপুর
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিলুপ্তির পথে গভীর সমুদ্রের রহস্যময় 'গাল্পার হাঙর'

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় ও প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী গাল্পার হাঙর দ্রুত বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। কসমেটিক শিল্পে ব্যবহৃত স্ক্যুয়ালিন সংগ্রহের জন্য এদের লিভার তেলে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। সাধারণত ২০০ থেকে ১,৫০০ মিটার গভীর পানিতে বসবাসকারী এই হাঙর এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নামছে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণবাদী সংগঠনগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া হলে আগামী বছরগুলোতে গাল্পার হাঙরের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে যেতে পারে।

গাল্পার হাঙরের লিভার তেল দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিক পণ্য—যেমন মেকআপ, সানস্ক্রিন, আফটারশেভ—এ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি নিকোটিন প্যাচ ও হেমোরয়েড চিকিৎসাতেও এই তেলের ব্যবহার রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গাল্পার হাঙরের লিভার তেলে থাকে ৭০% এর বেশি স্ক্যুয়ালিন, যা অন্যান্য হাঙর প্রজাতির তুলনায় সবচেয়ে বেশি। ফলে অতিরিক্ত শিকার হওয়ায় কিছু এলাকায় এই প্রজাতির সংখ্যা ৮০% এরও বেশি কমে গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার (আইএফএডব্লিউ)-এর সিনিয়র পরিচালক ম্যাট কলিস জানান, গাল্পার হাঙর খুব ধীরে বংশবিস্তার করে এবং পরিপক্ব হতে দীর্ঘ সময় নেয়। তাই অতিরিক্ত শিকার শুরু হলে এদের পুনরুদ্ধার হতে বহু বছর লেগে যায়।

যদিও কসমেটিক শিল্পের কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্ভিদ-ভিত্তিক বিকল্প স্ক্যুয়ালিন ব্যবহার শুরু করেছে, তবুও বিশ্বব্যাপী অনেক বিউটি পণ্যে এখনো হাঙরের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর আইনই এই প্রজাতিকে রক্ষার একমাত্র কার্যকর পথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলে গাল্পার হাঙরের সংখ্যা ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। একদিকে শিল্পের তীব্র চাহিদা, অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের সতর্কতা—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বেই আজ বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়ে এই বিরল গভীর সমুদ্রের প্রাণী।

সূত্র: জনকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়