শিরোনাম
◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে? ◈ মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিকেও আসছে অনলাইন ক্লাস ◈ এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে কড়াকড়ি, কর্মকর্তাদেরও চাকরি হারানোর ঝুঁকি ◈ চলতি অর্থ বছরের ৩১৮.৬৩৯ কি.মি. খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী  ◈ চাহিদার চাপে তেলশূন্য পাম্প—নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় চালু হচ্ছে পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’ ◈ প্রবাসী আয়ে নতুন ইতিহাস, এক মাসেই সর্বোচ্চ প্রবাহ

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৩ বিকাল
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ইরানিদের জন্য গয়না-বাসনপত্রের মতো সাহায্য কেন তুলছে ভারতীয়রা

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : মধ‌্য প্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে ইরানের নাগরিকদের জন্য ভারত থেকে কেউ পাঠাচ্ছেন গয়না, কেউ দিচ্ছেন জমানো অর্থ। আবার ভারত সরকারও পাঠাচ্ছে ওষুধ আর ত্রাণসামগ্রী। ইরানের নাগরিকদের সাহায্য করার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস।

একদিকে যেমন তেহরানে ওষুধ এবং ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত সরকার, তেমনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আর্থিক সাহায্য করেছেন সাধারাণ মানুষ। জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেউ জমানো টাকা পাঠিয়েছেন কেউ নিজের গয়না, কেউবা ঐতিহ্যবাহী বাসনপত্র দান করেছেন বলে জানা গিয়েছে।---- বি‌বি‌সি বাংলা

দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে তারা আপ্লুত। আসন্ন দিনগুলোতেও যাতে আর্থিক অনুদান এবং মানবিক সহায়তা যাতে পাঠানো হয় সে জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত দেওয়া হয়েছিল। জানানো হয়, কেউ চাইলে দূতাবাসে গিয়ে নগদ আর্থিক অনুদান দিতে পারেন।

এদিকে, সোমবার ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় মাহান এয়ার (ইরান এয়ারলাইন্স)-এর একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা বহন করছিল ওই বিমান। ভারত থেকেও ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ওই বিমানের। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো কারও না কারও পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু ভারত এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই অঞ্চলে 'শান্তি ও স্থিতিশীলতা' বজায় রাখতে বলেছে। পাশাপাশি সংঘাতের আবহে থাকা সমস্ত দেশকে 'সংযম' দেখানোর কথাও বলেছে।

ইরানি দূতাবাস কী জানিয়েছে

চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের নাগরিকদের কথা ভেবে ভারতীয়দের অনেকে এগিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছে দিল্লির ইরানি দূতাবাস।

ইরানের মিনাবে অবস্থিত এক স্কুলে হামলার পর অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। সেই সময় একটি মাটির ভাঁড় ও ফুলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দিল্লির দূতাবাসের তরফে জানানো হয় এক শিশু নিজের জমানো অর্থ দান করেছে।

পাশাপাশি কাশ্মীর, কেরালা, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আর্থিক সাহায্য এবং মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলেও খবর এসেছে।

কাশ্মীরের বদগাম, বারামুল্লাসহ একাধিক জেলায় ঈদ-উল ফিতর উদযাপনের পর, শিয়া-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকরা সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছেন। শুধু অর্থই নয়, সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু এবং ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করেছেন অনেকে।

ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মীরাটের তিন ভাই ইরানে হামলায় নিহত শিশুদের পরিবারকে সহায়তার জন্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি জমি দান করেছেন। ওই জমি নিলাম করার পর সংগ্রহ করা অর্থ মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য তুলে দেওয়া হবে বলে সংবাদ মাধ্যমকে তারা জানান।

ভারতীয়দের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে দিল্লস্থিত ইরানি দূতাবাস। আর্থিক অনুদানের জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের বিস্তারিতও দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক এক পোস্টে জানানো হয় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিবর্তে সরাসরি দূতাবাসে নগদে অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন ট্রান্সফারের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ চলছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করতে দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমেছিলেন অনেকে।

ভারতীয়দের একাংশের মধ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ গীতাঞ্জলি সিন্হা রায়ের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দেখ গিয়েছে যে কাশ্মীরসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ইরানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে। কেউ গয়না দান করেছেন কেউ দামী সামগ্রী দান করেছেন। কাজেই একাংশের মধ্যে ইরানের প্রতি পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে তা স্পষ্ট।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ভারতও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। তার কথায়, "ভারত যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উপর জোর দেয়, কিন্তু কোনো দেশের জোট হতে ভারত চায় না। এই প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্ট ও প্রবীণ সাংবাদিক কমার আগহা।

তার কথায়, নীতিগত দিক থেকে আমরা মানবিক সহায়তা বহনকারী বিমান বা যানের উপর আক্রমণের নিন্দা করি। যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের উপর যেভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তা সমর্থন করি না। কিন্তু সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ তারপর সেকেন্ডারি স্যাংশান জারি করে। ভারত সাধারণত এই সমস্ত সময়ে শুরুতে নীরব থাকে এবং পরে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে নিন্দা জানায়। এক্ষেত্রে কী হয় সেটা দেখার।

বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ উপমন্যু বসুর কথায়, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রাচীন। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কও ছিল। কিন্তু এই সংঘাতে ভারত সরাসরি যুক্ত নয়। তাই নীরব থেকেছে। এই নীরব থাকাটাও এক ধরনের কৌশলগত অবস্থান।"

"যুদ্ধের মাশুল অন্যদের চোকাতে হয়। এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানির সংকটে ভুগছে। ভারতও এই তালিকায় আছে তাই ভারত চায় এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। ভারত নীতিগত কোন অবস্থান নেবে না কিন্তু তার স্থিতিশীলতা আসুক সেটা চাইবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়