ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোল। তখন মনে হয়েছিল চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় জয়ই পেতে যাচ্ছে পর্তুগাল। তবে খেলার তখন বহু বাকি। সেই আভাস প্রথমার্ধের শেষ দিকেই দিয়ে দিলো দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গো। ইয়োনে উইসার দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে আসে সমতা। সেখান থেকে আর লিড নিতে পারেনি পর্তুগাল। কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের হতাশা নিয়েই ছাড়তে হয় মাঠ। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পায় কঙ্গো। পুরো ম্যাচে বিবর্ণ ছিলেন রোনালদো।
প্রথমার্ধে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। ম্যাচের ৬ মিনিটে নেভেসের হেড থেকে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বাম দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে নেভেস বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের পরও পর্তুগাল বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও ডিআর কঙ্গো ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। রক্ষণে অধিনায়ক চানসেল বেমবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং আক্রমণে উইসা কয়েকবার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে ডিআর কঙ্গো একটি কর্নার আদায় করে। সেই কর্নার থেকেই আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ফার পোস্টে সম্পূর্ণ ফাঁকায় থাকা উইসা উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে গোল করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোলটি আসে এবং স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
বিরতির পরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে ডিআর কঙ্গো। ৫৮ মিনিটে সেদরিক বাকাম্বুর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যদিও এর আগে অফসাইডের বাঁশি বাজানো হয়েছিল। অন্যদিকে পর্তুগাল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। ৫৬ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর অসাধারণ ওভারহেড কিকে বল জালে গেলেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
৬৯ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পান রোনালদো। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক।
শেষদিকে ডিআর কঙ্গোও পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরিয়ে দেয়। ৭৮ মিনিটে বাকাম্বুর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। আর যোগ করা সময়ে উইসাকে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন টমাস আরাউহো।
ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে পর্তুগাল মরিয়া হয়ে জয়ের গোল খুঁজতে থাকে। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক দিমিত্রি বারটাউড এমপাসি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ সময়ে কর্নার থেকেও কোনো সুবিধা করতে পারেনি পর্তুগাল। নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময় শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ডিআর কঙ্গোর খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।