মনিরুল ইসলাম: জামায়াতে ইসলামী ধর্মব্যবসায়ী উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, জামায়াত কেন এত কথা বলে তারা মনে করেছিল পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এই দেশের মানুষের মাইন্ডসেট বুঝতে পারেনি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।
তিনি বলেন, একদিকে যেমন জামায়াত ধর্মব্যবসা করেছে তাদেরকে এদেশের মানুষ পছন্দ করে না। আবার ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যেসমস্ত সহযোগিরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগের এক নেতা লতিফ সিদ্দিকী হজ্জ মক্কাশরীফ নিয়ে যে মন্তব্য করেছিল, মানুষ তাও পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোকা দেওয়াও কোনো দিন পছন্দ করে না।
আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতায়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে জিয়া’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, জিয়াউর রহমান একজন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে কারও কোনো দ্বিমত নেই। তার নেতৃত্বের যে বৈশিষ্ঠ,রাষ্ট্রনায়কোচিত যে বৈশিষ্ট তার দেশপ্রেম, তার সততা নিষ্ঠা এগুলো নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি। এমনকি তার প্রতিপক্ষ, বুদ্ধিজীবীরাও কখনো প্রশ্ন তোলেনি।
আজকে তার সুযোগ্যপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত তার যে কর্মতৎরতা, তার গতিশীলতা জনগণের কাছে ক্রমান্বয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তার বাবা খাল কেটে খাদ্য উৎপাদন দ্বীগুণ করেছেন। দেশকে দুর্ভিক্ষের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করে উৎপাদিত খাদ্যের বাড়তি অংশ বিদেশে রপ্তানি করেছেন। পিতার সাফল্য অনুসরণ করে তারেক রহমান কাজ শুরু করেছেন। খাল কাটা শুরু করেছেন।
সীমান্তকে রক্তাক্ত সীমান্তের প্রতিক উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, আমাদের সীমান্ত মৃত্যুর প্রতিক। অথচ আমাদের দেশের কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব টুশব্দ করেনি। আজকে ওইদেশে যারা সংখ্যালঘু তার কোনো নাগরিক স্বাধীনতা নাই। তার উৎসবের স্বাধীনতা নাই, তার ধর্মীয় স্বাধীনতা নাই। একটু টু শব্দ এখনো করেনি, আগেও করতো না। কারণ এদেরকে কিনে রাখা হয়েছিল। আজকে প্রটেস্ট হচ্ছে না? বাংলাদেশের বিজিবি কি সীমান্তে অবৈধ কাটাতারের বেড়া দিলে তারা প্রটেস্ট করছে না? কারণ এখন তারেক রহমানের সরকার। জাতীয়তাবাদী সরকার। এই গর্ব অহংকার বীরত্ব দেখাতে পারছে।
বর্তমানে ক্রসফায়ার, মিথ্যা মামলার ভয় নেই, সরকারের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি বার বার বলেছি কথা বলুন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলুন, প্রতিবাদ করুন, কিন্তু কুৎসা রটাবেন না। মিথ্যাচার করবেন না। যারা মিথ্যাচার করে তার ফলাফল ভাল হয় না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বললেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। কবে অস্বীকার করলেন? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীতো বলেছেন আমরা জুলাই সনদের সব বাস্তবায়ন করবো। কিছু টেকনিক্যাল ইস্যু থাকতে পারে, কিছু নোট অব ডিসেন্ট থাকতে পারে। সেটা আলাদা কথা। আলাপ আলোচনা করে এটা আইন প্রণনয়ন করতে হবে। কোনোটা সংবিধান সংশোধন করতে হবে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে একথা বলেছেন, তাহলে আপনি কোন তথ্যের ভিত্তিতে একথাটি বললেন।
আর একজন সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, কোরবানীর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই, গরুর হাটে টেলিফোনে নামের চাঁদাবাজি হয়েছে, সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশের মানুষতো আপনারাও আমরাও। ঈদের দিন সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো দাড়িয়ে কাজ করছে, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে, নিজের চোখে দেখা। তারপরও কিছু ইনকম্পিলিট থাকে। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগরীর অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়িয়ে যেখানে গাফেলতি দেখেছেন সেখানে পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করেছেন। তাহলে পদক্ষেপ নেয়নি এই মিথ্যাকথাটি কেন বললেন? আপনারা না ধর্মের নামে রাজনীতি করেন। আপনারা না ইসলামের নামে রাজনীতি করেন।
আপনাদের একজন নেতা (জামায়াতের) বলেছেন, '৭১ এর জামায়াত আর এখনকার জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য আছে। হ্যাঁ পার্থক্য আছে। ৭১ এর জামায়াত হানাদার বাহিনীর সাথে আঁতাত করে এদেশের মানুষের ওপর যখন জুলুম নির্যাতন, হত্যা, খুন হচ্ছিল সেটাকে সমর্থন করেছে। আর এখনকার জামায়াত হচ্ছে অপপ্রাচার মিথ্যাচারসহ নানা ধরণের অপকর্ম করছে। এই দুটা পার্থক্য। তখন অপপ্রচার, চাঁদাবাজি তাদের নামে জানা যায়নি, তবে তখন হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে নিজের দেশের লোককে হত্যা করার পথ দেখিয়েছে।
এটা একটা বড় ধরণের অভিযোগ। আর এখন বড় বড় কথা বলছেন টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে, নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা। একজনের নাম জাহাঙ্গীর এক জনের নাম রবিউল। পরে বহিষ্কার করেছেন। তাহলেতো আপনার দলেও চাঁদাবাজ আছে। ফেনীতে মামলা থেকে অব্যাহতি দেবে বলে জামায়াত নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে। সেটাও পত্রিকায় এসেছে।
ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে তারা যেমন গুপ্ত রাজনীতি করেছে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। আপনারা একটা আরবী শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজি না বলে হাদিয়াবাজী বলেন, এয়ানতবাজী করেন। আরবী শব্দ দিয়ে ওটাকে কাভারেজ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই হাদিয়াবাজী, এয়ানতবাজী কম করেন না। বহু জায়গায় প্রমাণ আছে ধমক দিয়ে করেন।
রিজভী আহমেদ আরও বলেন, বিএনপির মধ্যে এ ধরণের কিছু কর্মকাণ্ড ৫ আগস্টের পরে হয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান কঠোর হাতে দমন করেছেন, বহিষ্কার করেছেন। কিন্তু আপনাদের দলে নানা স্তরে এগুলো হয়েছে, যখন পত্রিকায় এসেছে তখন বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেস্তা হলেন কিভাবে।
জাসাসের যুগ্ম-আহবায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও জাসাস সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নায়ক আশরাফ উদ্দিন উজ্জল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, তাঁতীয় দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. আউয়াল প্রমুখ।