শিরোনাম
◈ দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করার চেষ্টা করছে বিএনপি ◈ নারী এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গো‌লে হারলো বাংলাদেশ ◈ ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগেই সমর্থকের রহস্যময় মৃত্যু, আহত ৪৭ ◈ এলাকায় মাইকিং— ‘সাউন্ডবক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ (ভিডিও) ◈ কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ জুলাই সনদের সাথে গণভোট বাতিল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই : আইনমন্ত্রী ◈ দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি ◈ কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানার আগুনে, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার (ভিডিও) ◈ বিমান ভূপাতিত হলে কী করেন পাইলট? জানুন টিকে থাকার বাস্তব গল্প

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর, ২০২৩, ০১:৪১ রাত
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২৩, ০১:৪১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রক্ষণশীলতা ও প্রগতিশীলতার দ্বন্দ্ব! 

আহসান হাবিব

আহসান হাবিব: [১] পুরনো ও নতুন সবসময় দ্বন্দ্বে লিপ্ত। এই দ্বন্দ্ব মোটাদাগে রক্ষণশীলতা এবং প্রগতিশীলতার। যেমন আজ থেকে একশ বছর আগে শচীন দেব বর্মণের বাংলা আধুনিক গান শুনে ডি এল রায়ের পুত্র দিলীপ রায় বলেছিলেন ‘ছেলেটা গোল্লায় গেলো’। অথচ শচীন দেব বর্মণের সেই গানগুলোর জন্যই আজ তিনি কালজয়ী এক শিল্পীর মর্যাদা পেয়েছেন। দিলীপ রায় কেন সেকথা বলেছিলেন? বলেছিলেন, কারণ শচীন মার্গ সংগীত ছেড়ে এই সংগীত এবং লোকসংগীতকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ একধরনের সুর সৃষ্টি করেছিলেন, যা জনগ্রাহ্যতা পেয়েছিল চূড়ান্ত মাত্রায়। আজো তার আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। কেন? কারণ নতুন সৃষ্ট গান মানুষের রুচির অনুগামী হয়েছিল যা তাদের জীবনযাত্রাকে প্রতিফলিত করেছিল। 

এই দ্বন্দ্ব মূলত সংস্কৃতির। সংস্কৃতি আর কিছু নয়, রাজনীতির ফলিত এবং ব্যবহারিক রূপ। মার্গ সংগীতের কাল শেষ হয়ে এসেছে, উদিত হয়েছে আধুনিককালের রক্তিম সূর্য। মার্গ সংগীত মূলত সামন্তবাদের জঠরে তৈরি যা দরবারে পেশ হতো এবং রাজারাজড়ারা শুনতো। পুঁজিবাদ, সাংস্কৃতিকভাবে যার বৈশিষ্ট্য আলাদা, তাকে হটিয়ে নতুনের কেতন উড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সংস্কৃতি ছিল সামন্তবাদী সংস্কৃতি থেকে উন্নত। এখন মার্গ সংগীত শোনা মানুষ হাতেগোনা। তার মানে এই নয়, মার্গ সংগীত, সংগীত হিসেবে পরিতাজ্য বরং সেখান থেকেই নির্মিত হয়ে চলেছে বর্তমান সময়ের নতুন নতুন সংগীত। উন্নত সংস্কৃতি নীচু সংস্কৃতিকে রিপ্লেস করে।

[২] এই যে সংস্কৃতির প্রবহমানতা, তার মূলে রয়েছে এর বিকাশের নিয়ম। সমাজ যতো বিকশিত হতে থাকে, সংস্কৃতি ততো নতুন রূপ লাভ করতে থাকে। তাদের প্রকাশভঙ্গি বদলে যেতে থাকে। এই বদলে যাওয়া নির্ভর করে বিকাশের মাত্রার ওপর। রবীন্দ্র নজরুলের গানের পর বাংলা গানের যে যাত্রা, লক্ষ্য করলে দেখবো সেখানেও বেশ কয়েকটি বাঁকবদল ঘটেছে। এই বাঁকবদল কীভাবে বুঝি? বুঝি প্রধাণত কথা এবং সুরের দিকে তাকিয়ে। প্রধাণত কথার ধরনই বদলে দেয় সুর। সময় যতো এগিয়েছে, গানের কথা ততো মানুষের কথা বলার কাছাকাছি এসেছে, ফলে মানুষ এসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে বেশি। কিন্তু এখানেও দেখা যাবে কিছু লোক নতুন গানের সমালোচনা করছে। তারা যে অভ্যাস দ্বারা বন্দী হয়ে পড়েছে, সেখান থেকে বের হতে পারছে না। এখনো অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে এই ভেবে যে আর কোনো গান হচ্ছে না। কারা এরা? এরা মূলত পুরনো রুচির লোক। এরা নতুন সৃষ্ট গান শুনে গ্রহণ করতে পারে না, ফলে নাকচ করার ভঙ্গিতে বলে ওঠে, সিরিয়াস কোনো গানই হয় না। অথচ এই সময় সংখ্যায় বেশি না হলেও অসাধারণ কিছু গান সৃষ্টি হয়েছে, যা নতুন রুচি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে ভীষণরকম।

নতুন গানের মর্মবাণী কী? ব্যক্তির জয়গান। এই জয়গান আনন্দের নয়, বরং বেদনার। একাকীত্বের বেদনা। নইলে অনুপম রায়ের ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ গানটি এতো জনপ্রিয়তা পায় কী করে? কিংবা হালের একটি গান ‘কেন রোদের মতো হাসলে না, আমায় ভালোবাসলে না’ কথা এবং সুরের আবেদনে যে সাড়া ফেলেছে তার গভীরে রয়েছে এর একাকীত্বের বেদনায়। কেননা আধুনিক মানুষ একলা মানুষ। তবে একলা মানুষ কখনো সমাজবিচ্ছিন্ন নয় কিন্তু। এই একাকীত্বের জন্য যে দায়ী তার নাম পুঁজিবাদ। সে উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, সে সামাজিক, কিন্তু ভোগের দিক থেকে একা। সে যা উৎপাদন করে তা সে ছুঁয়েও দেখতে পায় না। এই বোধ তাকে ক্রমশ একা এবং বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সংগীত সেই একাকীত্বের জয়গান গায়। একা হয়ে যাওয়া মানুষ তখন এসব গানে নিজেদের খুঁজে পায়। তখন পুরনোকে তার ম্যাড়মেড়ে লাগে। ঠিক এই সময় পুরনোকে আঁকড়ে থাকা লোক গরগর করতে থাকে এবং বলতে থাকে ‘সব গোল্লায় গেলো’।

[৩] প্রযুক্তির বেলায়ও এটা আরও প্রযোজ্য। নতুন কোনো প্রযুক্তি আসলেই একদল মানুষ তেড়ে আসে, সব গেলো গেলো বলে হাঁক পাড়ে। অথচ সমাজ বিকাশের মূলেই আছে এই প্রযুক্তি। প্রযুক্তি আর কিছুই নয়, বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন হালহাতিয়ার নির্মাণ। যতো নতুন নতুন হালহাতিয়ার নির্মাণ, ততো বিকাশ। এই বিকাশ মানে কিন্তু পুঁজিবাদের বিকাশ। কেননা আমরা এখনো পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যেই বাস করছি। একদিন এই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে। এর ভেতর যে দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল, তার মীমাংসার মধ্য দিয়েই এর কবর রচিত হবে। মনে রাখতে হবে যেখানেই দ্বন্দ্ব, সেখানেই সংঘর্ষ ও একদা তার মুক্তি মীমাংসায় এবং নতুন দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হওয়া। এভাবেই একদিন পুঁজিবাদের ওপর সমাজতন্ত্রের জয় পতাকা উড্ডীন হবে। মানবসমাজ সেদিকেই ধাবমান। লেখক: ঔপন্যাসিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়