মিষ্টিজাতীয় খাবার সবারই পছন্দ। এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে, যে চিনি পছন্দ করে না। মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করে না কিংবা ভালো লাগে না? তবে অনেক সময় এই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ করে চকলেট, কেক, আইসক্রিম কিংবা মিষ্টি পানীয় খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে। আর এই আকাঙ্ক্ষা শুধু স্বাদের জন্য নয়, এর পেছনে কাজ করে আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার ওঠানামা, ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ ও ভুল খাদ্যাভ্যাস। সে জন্য বারবার অতিরিক্ত চিনি খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ওজন বাড়া, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ— এমনকি মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
একদিনে সব বদলানো সম্ভব নয়। ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন। রাতের খাবারের পর মিষ্টির বদলে ফল খান। ক্যান্ডি বার → খেজুর + বাদাম/ মাখন + ডার্ক চকলেট। মিল্কশেক → কম চিনিযুক্ত প্রোটিন শেক খান। আর সোডার বদলে লেবুপানি পান করুন। পুরুষদের দিনে সর্বোচ্চ ৯ চা চামচ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যত কম চিনি খাবেন ততই ভালো। অন্যদিকে নারীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৬ চা চামচ।
তবে চিনির আকাঙ্ক্ষা কমানো একেবারেই অসম্ভব নয়। কিছু সহজ কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই আপনি মিষ্টির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে পারেন।
চিনির প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু সহজ ও কার্যকরী উপায় নিচে দেওয়া হলো। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
প্রচুর পরিমাণে পানি পান
অনেক সময় শরীরের তৃষ্ণাকে আমরা ক্ষুধা বা চিনির খাওয়ার ইচ্ছা মনে করি। সে জন্য মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা করলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করুন।
প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার
আপনার খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ফাইবার আছে। যেমন— ডিম, মাছ, ডাল এবং শাকসবজি ও ওটস খাদ্যতালিকায় রাখুন। এগুলো পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।
প্রাকৃতিক মিষ্টি গ্রহণ
যখনই মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা করবে, ঠিক তখনই কৃত্রিম চিনির বদলে ফল— আপেল, কলা কিংবা বেরি খাবেন। ফলের ফাইবার চিনির শোষণকে ধীর করে দেয়।
পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন
ঘুমের অভাব শরীরে 'ঘেরলিন' (ক্ষুধা বর্ধক হরমোন) বাড়িয়ে দেয়, যা মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেসের কারণে অনেকে বেশি মিষ্টি খাবার খেয়ে থাকেন। স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত ইয়োগা, হাঁটাহাঁটি কিংবা দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম করতে পারেন।
অল্প অল্প করে বাদ দিন
হঠাৎ করে চিনি বন্ধ না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমিয়ে দিন। চা বা কফিতে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনার মাধ্যমে শুরু করতে পারেন।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাকলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়তে পারে। তাই বাদাম, কুমড়ার বীজ বা ডার্ক চকলেট ডায়েটে রাখতে পারেন। এ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি সহজেই চিনির প্রতি আসক্তি কমিয়ে আনতে পারবেন।