কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য রেসিডেন্সি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা বাতিল হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানের বৈধ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৩০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ করা হয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পূর্বে রেসিডেন্সি পারমিট বাতিলের পর প্রবাসীরা ৩০ দিন পর্যন্ত কাতারে থাকার সুযোগ পেতেন, যা বর্তমানে কমিয়ে দুই সপ্তাহ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মে, আকামা বাতিলের পর নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ না করলে প্রবাসীদের প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল হারে বিলম্ব জরিমানা গুনতে হবে।
একই সাথে কাতারে আসা দর্শনার্থীদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন আল কুওয়ারি ভিজিটর বা পর্যটকদের তাদের পাসপোর্টে থাকা ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ এবং অবস্থানের সময়সীমা সতর্কতার সাথে যাচাই করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল হারে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।
ভ্রমণকালীন জটিলতা এড়াতে কাতার ছাড়ার আগে প্রবাসীদের ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিজেদের বর্তমান আইনি স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বকেয়া ট্রাফিক ফাইন, ওভারস্টে জরিমানা বা অন্য কোনো সরকারি পাওনা থাকলে তা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করা উচিত, অন্যথায় ভ্রমণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া প্রবাসীরা চাইলে এই মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমেই তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তর বা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট বা ইলেকট্রনিক গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে, যা যাত্রীরা অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন।
অন্যদিকে কাতারে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, প্রবাসীদের অবশ্যই নবজাতকের জন্মের পর পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা রিপোর্ট করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করার পর, শিশুটির বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে কাতারের রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা নিশ্চিত করতে হবে।সূত্র:গালফ নিউজ।