শিরোনাম
◈ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন ◈ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরতেই হচ্ছে পেতংতার্নকে: আদালতের রায় ◈ দুই দশক পর আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ‌সি‌রিজ খেলবে বাংলাদেশ! ◈ এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু ◈ ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার দিকে হাঁটছে’ ◈ কুমিল্লায়  দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার ◈ লতিফ সিদ্দিকী জামিন চাননি যে কারণে ◈ আট বিভাগে বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস ◈ চীন থেকে দেওয়া সারজিসের স্ট্যাটাস ভাইরাল ◈ মাদ্রাসায় জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বাতিল

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৪:৩৩ দুপুর
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টানা ১৪ দিন চিয়া সিড খেলে শরীরে যে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে!

ছোট্ট কালো বীজ চিয়া সিড ফিটনেস সচেতনদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপাদান। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য বহুমুখী উপকার বয়ে আনে। আধুনিক গবেষণা এবং পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড নিয়মিত গ্রহণে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

ভারতের প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি, যিনি হজম এবং পুষ্টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করছেন, তিনি জানিয়েছেন যে প্রতিদিন টানা ১৪ দিন চিয়া সিড খেলে শরীরে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে।

প্রতিদিন টানা ১৪ দিন চিয়া সিড খেলে যে পরিবর্তনগুলি দেখা যেতে পারে:

১. ক্ষুধা দমন ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি: চিয়া সিডের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিজের ওজনের প্রায় ১২ গুণ পানি শোষণ করতে পারে। এই কারণে, চিয়া সিড খাওয়ার পর এটি পেটে ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়, যা ক্যালরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
২. হজমশক্তি উন্নত করে: চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে অপরিহার্য। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া সহজ ও উন্নত হয়। একটি সুস্থ অন্ত্র মাইক্রোবায়োম বজায় রাখতেও ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ক্ষুধা কমানোর পাশাপাশি, চিয়া সিড পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করে। এর উচ্চ ফাইবার এবং প্রোটিন উপাদান শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি যোগায়, যার ফলে ক্লান্তি কমে এবং মেটাবলিজম উন্নত হয়। এই কারণে, ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে চিয়া সিড একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

৪. ত্বকের উপকারিতা: চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (বিশেষত ওমেগা-৩) ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত খেলে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও টেক্সচারে উন্নতি ঘটাতে পারে, ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর দেখানোর জন্য সহায়ক হতে পারে।

৫. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে: চিয়া সিডের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপ কমাতে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

৬. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: চিয়া সিডের ফাইবার রক্তে শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

কীভাবে খাবেন চিয়া সিড?

বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালের নাস্তা বা খালি পেটে পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। প্রায় ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই এটি ফুলে ওঠে এবং জেলির মতো একটি টেক্সচার তৈরি হয়।
এতে সারাদিন শরীরে শক্তি যোগাবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। আপনি এটি স্মুদি, দই, ওটমিল বা সালাদের সাথেও মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তাদের রাতে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ রাতে ফাইবার হজম হতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।

সতর্কতা:

চিয়া সিড উপকারী হলেও, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে পেট ব্যথা, গ্যাস বা ডায়রিয়া অন্যতম। এর উচ্চ ফাইবার উপাদান কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে, বিশেষত যারা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত নন। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে (সাধারণত ১-২ চামচ) যুক্ত করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাও জরুরি, কারণ ফাইবার সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পানি প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, একটানা ১৪ দিন পরিমিত পরিমাণে চিয়া সিড খেলে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, তবে মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র:

  • ড. সৌরভ শেঠি (গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট, ভারত)

  • বিভিন্ন পুষ্টি বিষয়ক গবেষণা ও ওয়েবসাইট (যেমন, Healthline, Medical News Today)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়