বিনোদন ডেস্ক : নতুন সরকার আসার পর টলিউডের ভেতরের বহুদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে একে একে। এবার সরব সঙ্গীত শিল্পীরা। শ্রোতাদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছতে শিল্পী, মিউজিসিয়ান্স, বাচিক শিল্পীদের নিয়ে তৈরি হল নতুন ফোরাম ‘পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন ফোরামের পথচলা শুরু হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, সংগীত শিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দ্য বসু, শিলাজিৎ মজুমদার, পটা, সিধু, দেব চৌধুরি-সহ আরও অনেকে।
পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’ এর মুখপাত্র হিসেবে অনিন্দ্য বসু শিল্পীদের বেশ কয়েকটি আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করেছেন। শিল্পী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে মধ্যস্থতা করবেন রুদ্রনীল ঘোষ। শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল শিল্পীদের এই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। রুদ্রনীল বলেন, “আমি শিল্পীদের এই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব। আমি বার্তাবাহক, মাধ্যম মাত্র। বিগত পনেরো বছর ধরে যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা হয়েছে। পছন্দের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতদিন ধরে যে অরাজকতা চলে এসেছে মানুষ সেই সিস্টেমের পরাজয় ঘটিয়েছে।” শিল্পীদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিয়েও বহুবার আলোচনা হয়েছে।
এবিষয়ে শিলাজিতের বক্তব্য, “আমরা শিল্পীরা অন্যদের থেকে আবেগপ্রবণ। নেতাদের থেকে আমাদের ইমোশন বেশি। রুদ্রনীল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে আমাদের আর্জি জানাবেন। কারণ তিনিও আমাদের সমব্যথী। আমি আশা করব এর পর থেকে বাংলার শিল্পীরা যথাযোগ্য পারিশ্রমিক পাবেন।
পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’-এর তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আট দফা দাবি জানানো হয়েছে। শিল্পীদের জন্য সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, সাংস্কৃতিক মঞ্চে স্বজন-পোষণ বন্ধ করা, মহিলা শিল্পীদের মঞ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিল্পীদের বার্ধক্য ভাতা এবং চিকিৎসা সহায়তা, যোগ্য শিল্পীদের প্রাপ্য মর্যাদা-সহ একাধিক দাবি রয়েছে। শিল্পীদের সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ তৈরি করাই ফোরামের মূল লক্ষ্য। ফোরামের ট্যাগ লাইন ‘স্বচ্ছ সংস্কৃতি, সুস্থ সংস্কৃতি’।
তৃণমূল জমানায় সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ধারারও কি বদল ঘটবে? এ প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, “যে কোনও যোগ্য শিল্পী সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক পাবেন। সেখানে নিরপেক্ষভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন সরকার আসার পর শিল্পীরা যে পরিবেশ চাইছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আমরা সেই সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবো।