মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সুইচ টিপে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, গত নির্বাচনের আগে হবিগঞ্জের জনসভায় তিনি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সকল নারী শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকার শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, চা বাগানের ৫০ জন নারী শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদেরও কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, “এই বাজেট জনগণের বাজেট। যে বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে কেউ কেউ ‘চানাচুর’ বা ‘গণবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করছে। অথচ এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, বাজেটে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার উন্নয়নের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই থেকে এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় আমদানিকৃত সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় শিল্প-কারখানাগুলো সুরক্ষা পায় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই এবং উন্নয়নের এই ধারা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখতে চাই।”
পরে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
এর আগে বুধবার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান।