শিরোনাম
◈ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কৌশলগত বড় পরিবর্তন: ইন্দো-প্যাসিফিক নাম বাদ, নতুন করে ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ চালু করল পেন্টাগন ◈ হামের টিকাদানে গাফিলতির প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা, হজের খরচ কমানো ও তিস্তায় নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী ◈ সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ‘১৪ দফা’ চুক্তি ফাঁস, সামনে আসছে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা ◈ ‘আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক, দেশ ছেড়ে কোথাও যাব না’ ◈ সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ দেশে হাম সন্দেহে মৃত্যু আরও ৪ জনের, নতুন করে আক্রান্ত ৯৬৬ ◈ শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন, বাজেট নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রীর ◈ ভূমি অফিসে অনিয়ম ঠেকাতে আসছে ডিজিটাল মনিটরিং

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দিনাজপুরের ৫টি উপজেলায় চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুলে বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

এম এ কুদ্দুস, (বিরল) দিনাজপুর প্রতিনিধি : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর যৌথ উদ্যোগে দিনাজপুরের ৫টি উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া হ্রাস, দৈনিক পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণসহ উপস্থিতি বেড়েছে। অন্যদিকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ব্যপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটেছে।

দিনাজপুর জেলার বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট এই ৫টি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর যৌথ উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে । এই কর্মসূচির আওতায় ৫ উপজেরার মোট ৩৯টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় থাকা ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর সুফল পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া হ্রাস, দৈনিক পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণের লক্ষে সপ্তাহে ৫ দিন টিফিন পিরিয়ডে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাদ্য দেয়া হচ্ছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে: ২টি বনরুটি, ১টি সিদ্ধ ডিম ও ১টি কলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবার পর বিরল উপজেলার দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ পাকা সড়কের পাশে নিজামপুর তেতুলতলা নামক স্থানে থাকা আয়শা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফেক্টরিতে কাজ করছে প্রায় ৩ শতাধিক শ্রমিক। এই শ্রমিকদের মধ্যে অর্ধেকেই নারী। তারা সকলে এই ফ্যাক্টরিতে পরম যতেœ কাজ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে।

এদিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিটি চালুর পর বিভিন্ন রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান বা ফেক্টরির বিরুদ্ধে সরবরাহকৃত খাদ্যের গুনগত মান নিয়ে না না অভিযোগ উঠলেও আয়শা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফেক্টরির ব্যপারে তেমন অভিযোগ এখনো নজরে আসেনি। কারণ এখানকার শ্রমিকরা কর্মসূচির সুফলভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন খাদ্য তৈরিতে অনেকটা আন্তরিক ও দক্ষ। সঠিক ওজন ও গুনগত মান বজায় রেখে সকল শ্রমিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরী করছে পুষ্টি সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট মানের বনরুটি। যতœ ও ¯েœহমাখা হাতে সেই সমপ্ত তৈরী খাদ্য (বনরুটি) প্যাকেজিং ও কার্টন করা হচ্ছে। এসব কাজে পরিপাটি. পরিস্কার, পরিচ্ছনতা এবং আন্তরিকতার ঘাটতি নেই কোন শ্রমিকের মধ্যে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের আন্তরিকতা দেখে মনে হয় যেন, প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে মায়ের আদর ও বোনের ¯েœহ ও ভালবাসা জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

এর পর সমস্ত খাবারের কার্টন থরে থরে সাজিয়ে কার্ভাড ভ্যানে করে নিরাপদ ভাবে সঠিক সময়ে পৌছে দেয়া হচ্ছে জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সাপ্লাইয়ার সমতা ট্রেডার্স , ১৭-বি, আকমল খান রোড,কাবু বাজার, ঢাকা-১১০০ এর রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে এই আয়শা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফেক্টরি বলে জানা গেছে। তারা মূলত ৫টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র বোচাগঞ্জ উপজেলায় তালিকায় অর্ন্তভ’ক্ত খাদ্যের মধ্যে বররুটি সরবরাহ করে থাকে।

এই ফেক্টরির একজন নারী শ্রমিক মোস্তারিনা জানান, আমরা এই প্রতিষ্ঠানে সুন্দর ভাবে কাজ করছি। এই প্রতিষ্ঠানের মান অনেক ভালো। আমরা চাই প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাক। এই প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে গেলে এই এলাকার আরও অনেক মহিলা কাজ করার সুযোগ পাবে। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আমরা সংসার চালাতে পারছি। আমাদের সুবিধা হচ্ছে।

আর একজন নারী শ্রমিক সুফিয়া খাতুন জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন পিরিয়ডে আমাদের তৈরী পুষ্টিকর যে খাবার গুলো সরবরাহ করা হয়, এতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।

ফ্যাক্টরির কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আলামিন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সরকার যে ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে, তা খুবই ভালো। এখানে গুনগত মানসম্পন্ন বনরুটি তৈরি করা হয় এবং গুনগত মান বজায় রেখে কাজ করা হয়।

আয়শা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফেক্টরির ম্যানেজার বিজয় মন্ডল জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ফিডিং কর্মসূচি চালু হবার পর এখানে নতুন করে অন্তত ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে, তারাও আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

আমরা যে শিশু শিক্ষার্থীদের খাদ্যটা দিতে পারছি, এতে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই এই প্রজেক্টটি দেশের প্রতিটি জেলায় চালু হোক। এতে করে অনেকর কর্মসংস্থান হবে এবং অনেকে উপকৃত হবে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত গুনগত মান বজায় রেখে সঠিক সময়ে বনরুটি সরবরাহ করছে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের মালিক (ফেরদৌস আহমেদ সোহাগ) অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমরা যে কাজ গুলো করি, সে কাজ গুলোর আজ পর্যন্ত কোন রকম ভ’লত্রুটি ধরা পড়েনি। আমরা চাই যেন এ ধরনের কাজ কর্ম চলতে থাকে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়