শাহীন খন্দকারঃ ‘Ultrasound First, Ultrasound Last’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফি (বিএসইউ) আয়োজিত ৩৮তম জাতীয় কনফারেন্স ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রায়হান হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর আল্ট্রাসাউন্ড ইন মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজি এবং এশিয়ান ফেডারেশন ফর আল্ট্রাসাউন্ড ইন মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজির সক্রিয় অংশগ্রহণে আল্ট্রাসাউন্ড বিষয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী সম্মেলন ও ওয়ার্কশপ থেকে অর্জিত জ্ঞান চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত ও নিখুঁত বিকাশে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার গুরুত্ব বর্তমানে সর্বজনস্বীকৃত। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি একটি অপরিহার্য অংশ। তাই আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবার গুণগত মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিষয়ে চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক উৎকর্ষের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি একাডেমিক শিক্ষার সুযোগও বাড়াতে হবে।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষার্থীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিষয়ে আরও সমৃদ্ধ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে রোগীদের বিশ্বমানের আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রায়হান হোসেন বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসইউ দেশব্যাপী আল্ট্রাসাউন্ড সেবার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোসাইটির ছয়টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবার গুণগত মান বজায় রাখা ও এর প্রসারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সহযোগিতায় উচ্চতর কোর্স চালু করা ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির সহসভাপতি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, জাতীয় কনফারেন্স ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই শতাধিক সনোলজিস্ট অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞরাও এতে অংশ নেন।
তিনি বলেন, এই আয়োজন বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং চিকিৎসকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ করীম, বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর আল্ট্রাসাউন্ড ইন মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজির পরিচালক (সেন্টার অব এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. কানু গোপাল বালা, বিএসইউর সহসভাপতি অধ্যাপক জেসমিন আরা হক, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাসসহ দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা।