বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এ তথ্য জানিয়েছে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন। রক্ত থেকে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলা, শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কিডনি। তাই কিডনির সামান্য সমস্যা পুরো শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, কিডনি রোগের লক্ষণ হঠাৎ করেই গুরুতর হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবে শরীর শুরু থেকেই কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। মুম্বাইয়ের হোলি ফ্যামিলি হাসপাতাল-এর কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট ডা. হেমন্ত চৌগুলে জানান, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
নিচে কিডনি সমস্যার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
১. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন: হঠাৎ করে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাবে ফেনা বা বুদবুদ দেখা কিংবা প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি এসবই কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. পা, গোড়ালি বা চোখের পাতায় ফোলাভাব: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত পানি ও লবণ জমতে থাকে। ফলে পা, গোড়ালি কিংবা চোখের পাতায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটিকে ওজন বাড়া মনে হলেও কিডনি সমস্যাজনিত ফোলা সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সময়ভেদে কম-বেশি হয়।
আরও পড়ুন: ইফতার থেকে সেহরি, সুস্থ থাকতে যেসব নিয়ম মানতে বলছেন চিকিৎসক
৩. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা: অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা বা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া কিডনি কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি এক ধরনের হরমোন তৈরি করে, যা রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে। কিডনি দুর্বল হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে শরীরে শক্তি কমে যায়।
৪. ক্ষুধামন্দা, বমিভাব বা মুখে অস্বাভাবিক স্বাদ: খাবারে অরুচি, হালকা বমিভাব কিংবা মুখে ধাতব স্বাদ অনুভব করাও কিডনি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। রক্তে বর্জ্য জমতে শুরু করলে এসব উপসর্গ দেখা দেয়।
৫. নিয়ন্ত্রণে না থাকা উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কিডনি রোগের কারণ, আবার কখনও কিডনি সমস্যার ফলাফল। ওষুধ সত্ত্বেও যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আসে, বিশেষ করে কম বয়সে, তবে কিডনি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত। গুরুতর লক্ষণের জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে সচেতন হওয়াই নিরাপদ।
মনে রাখতে হবে, কিডনি রোগ সাধারণত নীরবে ও ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। তাই পা ফোলা, প্রস্রাবে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস