শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৪, ০৮:৫৯ রাত
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৪, ০৮:৫৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হোমিও ঔষধের মূল্য বাড়ছে দফায় দফায়

গোবিন্দ শীল: [২] ডলার সংকটকে এ জন্য দায়ী করছেন অনেকে। তবে হোমিও ঔষধ ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকের মতে, ডলার সংকটের আগে থেকেই নানা অজুহাতে হোমিও ঔষধের দাম বাড়তে থাকে। গত ৫/৬ মাস ধরে ব্যাংকগুলো জার্মানী ও অন্যান্য দেশ থেকে ঔষধ কিনতে এলসি খুলতে গড়িমসি করছে। 

[৩.১] জার্মানী থেকে ঔষধ ক্রয় করেন, জয়কালী মন্দির এলাকার এমন একটি আমদানি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের নতুন সময়কে বলেন, গত কয়েকমাস ধরে তার প্রতিষ্ঠান ৫০ কোটি টাকার ঔষধ আমদানির জন্য ব্যাংকে ব্যাংকে ধর্না দিচ্ছে। 

[৩.২] তিনি বলেন, আমরা সব সময় এনআরবি ব্যাংক থেকে এলসি (ঋণপত্র) খুলি। অথচ ১০০ ভাগ অর্থ পরিশোধ করেও আমরা সেখান থেকে ঋণপত্র খুলতে পারছি না। তারা আমাদেরকে ইসলামী ব্যাংকে যেতে বলে, আর ইসলামী ব্যাংক আমাদেরকে এখন এনসিসি ব্যাংকে যেতে বলছে। 

[৩.৩] তিনি বলেন, অনেক প্রয়োজনীয় ঔষধের স্টক শেষ হয়ে গেছে এবং সেগুলো বাজারে দুর্লভ হয়ে যাবার কারণে অনেক বিক্রেতা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি দাম নিচ্ছেন। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ঔষধ বিক্রিও অনেক কমে গেছে। 

[৩.৪] তিনি বলেন, আমি গত বছরে এসময়ে দিনে ৯০ হাজার বা এক লাখ টাকার ঔষধ বিক্রয় করেছি আর এখন দিনে মাত্র ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে।

[৪.১] শ্যামলীর মনসুরাবাদ এলাকার বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম মুকুল আমাদের নতুন সময়কে বলেন, ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১২৫ টাকারও বেশি হয়ে গেছে, সে কারণে ঔষধের দামও অনেকটা বেড়ে গেছে। 

[৪.২] তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেও আমি কয়েকটি ঔষধের একটি লট কিনেছি ২৯ হাজার টাকায় যা ক’দিন আগে আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।

[৪.৩] মুকুল বলেন, হোমিওপ্যাথি ঔষধের মধ্যে মাদার টিংচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ এবং এটির মূল্য বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। হৃদরোগের মহৌষধ বলে পরিচিত জার্মানীর তৈরী  ক্র্যাটিগাস মাদার টিংচার এক লিটারের দাম ১৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার টাকা। একই ভাবে লিভারের ঔষধ চেলেডোনিয়ামের দামও অনেক বেড়ে গেছে।  

[৪.৪] তিনি বলেন, কিছু হোমিও ডাক্তার গুটিকয়েক ঔষধ ব্যবহার করেন বেশি। যে কারণে যাঁরা কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ঔষধ ব্যবহার করেন, তারা বেশি বিপদে পড়েছেন। কারণ আমদানিকারকেরা স্বল্প ব্যবহৃত ঔষধগুলো আনছেন না। 

[৫] পল্লবী এলাকার অন্যতম হোমিও ঔষধ বিক্রেতা পল্লবী হোমিও হলের একজন কর্মচারী বলেন, বিভিন্ন ঔষধের ওপর ধার্যকৃত নানা রকম শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে ঔষধ কিনতে হচ্ছে। আগে থেকে ঔষধের বিক্রয় কমে গেছে।

[৬] প্রসঙ্গত, গরীব মানুষের অল্প মূল্যে এই চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় সরকার ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আইন পাস ও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল গঠ করে। এই কাউন্সিল এর আগে গঠিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে প্রতিস্থাপিত করেছে। 

[৭] বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম আমাদের নতুন সময়কে বলেন, হোমিওপ্যাথিক ঔষধের গুণাগুন ও কার্যকারিতার জন্য সরকার জেলা পর্যায়ে এবং কোন কোন উপজেলায় প্রথম শ্রেণীর ডাক্তারের মর্যাদা দিয়ে পোস্ট তৈরি করেছেন। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

এসবি২

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়