শিরোনাম
◈ ‘হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন’ : তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম ◈ ‌কোচ জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে ৫ নতুন মুখ ◈ ইউনিয়ন বার্লিনের জা‌লে বায়ার্ন মিউনি‌খের ৭ গোল, হ‌্যা‌রি কেইনের রেকর্ড ◈ ইং‌লিশ লি‌গে চেলসিকে উড়ি‌য়ে দি‌লো ব্রেন্টফোর্ড ◈ বাংলাদেশসহ ২১১ সদস্যকে ১২৩ কোটি টাকা করে দেওয়ার দাবিতে ইনফান্তিনোকে উয়েফা-কনকাকাফের চিঠি ◈ রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ, বিশ্ব পারমাণবিক শক্তির জগতে বাংলাদেশ ◈ জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু ◈ বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস, ১৭ দিনে পাড়ি ৪০ হাজার ৫৯৩ জনের ◈ টানা ৬ ঘণ্টা শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ রাজধানীর একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাতামুহুরী নদী আর মেঘের হাতছানি, ঘুরে আসুন সুখিয়া ভ্যালি

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে একদিকে সবুজের সমুদ্র, অন্যদিকে আঁকাবাঁকা মাতামুহুরী নদীÑসামনে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। কখনো সূর্যোদয়ের সোনালি আলোয় পাহাড়ের গা রঙিন হয়ে উঠছে, আবার বিকেলে সূর্যাস্তের লাল আভায় বদলে যাচ্ছে পুরো দৃশ্যপট। এমনই এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নাম সুখিয়া ভ্যালি।

বান্দরবানের লামা উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১,৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্রটি এখনো তুলনামূলকভাবে নিরিবিলি। জনপ্রিয় মিরিঞ্জা ভ্যালির ভিড়ের বাইরে যারা পাহাড়ের সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য সুখিয়া ভ্যালি হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য।

advertisement

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মাতামুহুরীর দেখা

সুখিয়া ভ্যালির অন্যতম আকর্ষণের পাহাড়চূড়ার ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় মাতামুহুরী নদী। নদীর দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুখিয়া ও দুখিয়া পাহাড় যেন পুরো দৃশ্যটিকে একটি প্রাকৃতিক ক্যানভাসে পরিণত করেছে। ভোরে ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখা কিংবা বিকেলে সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের রং বদলে যেতে দেখাÑদুটিই হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

advertisement

ওয়াচ টাওয়ারের পাশেই রয়েছে জুমঘর ও ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা। ফলে যারা শুধু ঘুরে ফিরে আসতে চান না, বরং রাতের পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে থাকার সুযোগ।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য হাইকিং ও ট্র্যাকিং

advertisement

সুখিয়া ভ্যালির সৌন্দর্য শুধু দূর থেকে দেখার নয়। পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটা, ট্র্যাকিং আর হিল হাইকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকে আরও কাছ থেকে অনুভব করা যায়। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় চারপাশের সবুজ, মেঘ আর দূরের নদীর দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। তাই প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছেও জায়গাটি আকর্ষণীয়।

নৌকায় মাতামুহুরী ভ্রমণ

সুখিয়া ভ্যালিতে এসে শুধু পাহাড় দেখেই ফিরে আসার প্রয়োজন নেই। মাতামুহুরী নদী থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখা যায় আশপাশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। নৌভ্রমণে মিনঝিরিপাড়া, সাদা পাহাড়, সুখিয়া ও দুখিয়া পাহাড়সহ আশপাশের আরও কিছু আকর্ষণীয় জায়গা দেখার সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় আর নদীকে একই ভ্রমণে উপভোগ করার এই সুযোগই সুখিয়া ভ্যালিকে অন্য অনেক পাহাড়ি গন্তব্য থেকে আলাদা করে।

মেঘ দেখতে চাইলে সুখিয়া ভ্যালি

লামার মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যেমন পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের খেলা দেখা যায়, সুখিয়া ভ্যালিতেও রয়েছে সেই আবহ। তবে এখানে বাড়তি আকর্ষণ মাতামুহুরী নদীর দৃশ্য।

বিশেষ করে মেঘলা সকালে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশে মেঘের আনাগোনা দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে অসাধারণ।

শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটি দিন প্রকৃতির কাছে কাটাতে চাইলে তাই সুখিয়া ভ্যালি হতে পারে চমৎকার একটি পছন্দ।

কীভাবে যাবেন

সুখিয়া ভ্যালি যেতে হলে প্রথমে আসতে হবে বান্দরবানের লামা উপজেলায়। ঢাকা থেকে আলীকদমগামী বাসে সরাসরি লামা যাওয়া যায়। সরাসরি বাস না পেলে কক্সবাজারগামী বাসে চকরিয়া এসে সেখান থেকে লামার পথে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে চকরিয়া রুটে বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাওয়া যায়।

চকরিয়া থেকে লোকাল জিপ, বাস বা সিএনজিতে লামা বাস টার্মিনালে যাওয়া যায়।

প্রয়োজন হলে গাড়ি রিজার্ভও করা যায়। লামা বাস টার্মিনাল থেকে অটোতে করে সুখিয়া ভ্যালির দিকে যাওয়া যায়।

তবে ভাড়া ও যানবাহনের সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। যাত্রার আগে স্থানীয়ভাবে

বর্তমান ভাড়া ও যাতায়াতের অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।

পাহাড়ে রাত কাটাবেন যেভাবে

সুখিয়া ভ্যালিতে থাকার জন্য রয়েছে জুমঘর, কটেজ ও তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ। জুমঘরে সাধারণত একসঙ্গে কয়েকজন থাকার ব্যবস্থা থাকে। কটেজগুলো তুলনামূলক আরামদায়ক। আর যারা প্রকৃতির আরও কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ।

ভ্রমণের মৌসুমে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। তাই যাওয়ার আগে থাকার জায়গা সম্পর্কে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।

পাহাড়ি খাবারের স্বাদ

সুখিয়া ভ্যালির বিভিন্ন থাকার জায়গায় খাবারের প্যাকেজের ব্যবস্থাও রয়েছে। সাধারণত সকালের নাস্তায় থাকে ডিম ও খিচুড়ি।

দুপুরে ভাত, সবজি, মুরগি ও ডাল এবং সন্ধ্যায় চা-বিস্কিটের আয়োজন থাকে। রাতে অনেক ক্ষেত্রে বারবিকিউয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।

খাবারের প্যাকেজের দাম সময় ও আয়োজনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

ভ্রমণের আগে কিছু কথা

পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। লামা বাজারের সেনাবাহিনী চেকপোস্টের কারণে সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রাখা ভালো। ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করুন। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় প্রয়োজনীয় পানি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখুন।

নৌকা ভাড়া করার আগে কোন কোন স্পটে নিয়ে যাবে, কতক্ষণ ঘোরাবে এবং মোট ভাড়া কতÑ এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পাহাড় ও নদীর পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

সূত্র: রুপালি বাংলাদেশ