মনিরুল ইসলাম : বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই–এর অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলামকে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাদ আসর মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে, জুমার নামাজের পর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় জানাজা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বিকাল ৩টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হয়। সেখান থেকে মিরপুরে নেওয়ার পথে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র–এ ১৫ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন আমীরুল ইসলাম। চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। ‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য অল্প বয়সেই বাংলাদেশ শিশু একাডেমির অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন এবং পরবর্তীতে এই সম্মাননা আরও পাঁচবার অর্জন করেন।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারও রয়েছে তার ঝুলিতে।
তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও সৃজনশীল লেখায় তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। আমীরুল ইসলাম বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর–এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’-এর প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের মাসিক ‘আসন্ন’-এর সম্পাদক হিসেবে প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেন। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার শিশুদের জন্য প্রকাশিত চার রঙের কিশোর পাতা সম্পাদনাও করেন পাঁচ বছর। সর্বশেষ তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ভ্রমণ ছিল তার অন্যতম প্রিয় শখ। বিশ্বের বিভিন্ন শহর ভ্রমণের পাশাপাশি পুরনো বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ, বই পড়া, দাবা খেলা এবং রবীন্দ্রসংগীত শোনা ছিল তার পছন্দের বিষয়।
তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।