নেটফ্লিক্সের রাজকীয় ড্রামা সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেত্রী ক্লেয়ার ফয় সম্প্রতি তার জীবনের এক ভয়াবহ শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তিনি অজ্ঞাতসারেই শরীরের ভেতরে পরজীবী বহন করে আসছিলেন। মরক্কো ভ্রমণের সময় কোনোভাবে এই সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন বলে ধারণা করছেন ৪১ বছর বয়সী অভিনেত্রী।
জেসি এবং লেনি ওয়্যারের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘টেবিল ম্যানার্স’-এ অংশ নিয়ে ক্লেয়ার ফয় তার এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আমি পরজীবী দ্বারা সংক্রমিত হই। এটি ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর। আমি কোনো কারণ ছাড়াই ক্রমাগত ওজন হারাচ্ছিলাম এবং বুঝতে পারছিলাম না আসলে কী ঘটছে।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা খান। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি মজা করে বলেন, পরজীবীগুলো জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়াত। বিষয়টি সত্যিই খুব জঘন্য ছিল।
এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে ক্লেয়ার ফয়কে তার খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সংক্রমণের চিকিৎসায় কড়া অ্যান্টিবায়োটিক নিতে অনিচ্ছুক হওয়ায় তিনি বিকল্প উপায়ে ‘প্যারাসাইট ক্লিনজিং’ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে তিনি ক্যাফেইন গ্রহণ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তিনি আরও জানান, তিনি এখন চিনি এবং গ্লুটেনমুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। একটি অটো-ইমিউন কন্ডিশন (শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ত্রুটি) নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কঠোর নিয়ম মেনে চলছেন তিনি। শরীরের প্রদাহ কমাতে তিনি বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন।
গত মাসেই ‘সানডে টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফয় জানিয়েছিলেন যে, ছোটবেলা থেকেই নানা শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি একসময় ভেবেছিলেন তার বয়স হয়তো ৪০ পার হবে না। তবে বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।
রানি এলিজাবেথের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য দুটি এমি এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব জয়ী এই অভিনেত্রী খুব শিগগিরই পর্দায় ফিরছেন। এনিড ব্লাইটনের ফ্যান্টাসি গল্প অবলম্বনে ‘দ্য ম্যাজিক ফ্যারাওয়ে ট্রি’ এবং ব্ল্যাক কমেডি ‘স্যাভেজ হাউস’-এ তাকে দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসকদের মতে ভ্রমণের সময় অপরিচ্ছন্ন খাবার বা পানি এবং যথাযথভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাসের অভাবে এ ধরনের পরজীবী সংক্রমণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের বেশি পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: বিবিসি