শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের শেষ ছবি ‘জন নায়াগান’। তবে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) সময়মতো ছাড়পত্র না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। এই ছবির পরই পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনীতিতে যোগদানের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বিজয়।
এবার শেষ মুহূর্তে বিজয়ের ছবি মুক্তি আটকে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ‘জন নায়াগান’ মুক্তিতে বাধা দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টাকে তামিল সংস্কৃতির উপর আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আর এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে লোকসভার এই বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনোই তামিল জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে সফল হবেন না।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন তিনি নির্বাচনমুখী তামিলনাড়ু সফরে রয়েছেন। এ সময় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা বাড়ানো বিজয়ের তামিল সিনেমা ‘জন নায়াগান’ ঘিরে চলমান বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জন নায়াগান ছবি বন্ধ করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টা তামিল সংস্কৃতির উপর আক্রমণের শামিল। মি. মোদী, আপনি তামিল জনগণের কণ্ঠস্বর দমন করতে কখনোই সফল হবেন না।’
বিজয় সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম’ (টিভিকে) প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশের আগে তার শেষ ছবি হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচারণায় থাকা ‘জন নায়াগান’র মুক্তির নির্ধারিত তারিখ ছিল ৯ জানুয়ারি। কিন্তু সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) সময়মতো ছাড়পত্র না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে ছবিটির মুক্তি আটকে যায়।
গত ৯ জানুয়ারি বিচারপতি পি টি আশা সিবিএফসিকে ‘জন নায়াগান’-কে ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি এম এম শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি জি আরুল মুরুগানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ একক বিচারকের রায়ের বিরুদ্ধে সিবিএফসি-র আপিল গ্রহণ করে এবং এর মুক্তি স্থগিত রাখে।
এর আগে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশনস এলএলপি সিবিএফসিকে সেন্সর সার্টিফিকেট ইস্যু করার নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি আশা সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, বোর্ড একবার সার্টিফিকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে চেয়ারপারসনের নিকট সেটি পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানোর কোনো ক্ষমতা নেই। এই আদেশের বিরুদ্ধে সিবিএফসি তাৎক্ষণিকভাবে আপিল করে।
আদালত বর্তমানে ছবি মুক্তির স্থগিতাদেশ বহাল রেখে সিনেমার প্রযোজককে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।