একসময়ে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না হলিউড তারকা কিম কার্দাশিয়ান। দুই দশক আগে পেজ থ্রি–র পাতায় তার নামটি মাঝে মাঝে উঠে আসত মূলত নামজাদা আইনজীবী রবার্ট কার্দাশিয়ানের কন্যা হিসেবে। তিনি ছিলেন আমেরিকান ফুটবলার ও. জে. সিম্পসনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আলোচিত মামলায় সিম্পসনের পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন।
২০০২ সালের দিকে কিমকে ঘিরে আরও কিছু কারণে সংবাদমাধ্যমের নজর পড়তে শুরু করে। প্যারিস হিলটনের বন্ধুত্ব, হিপহপ শিল্পী ব্র্যান্ডির স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ—এসব কারণে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ছিল তাঁর। একই সময়ে ব্র্যান্ডির ভাই রে জে-র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও শিরোনামে আসেন তিনি।
পরিস্থিতি বদলে যায় ২০০৭ সালে, যখন রে জে-র সঙ্গে কিমের ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক আলোচনায় আসেন কিম কার্দাশিয়ান। এরপরই শুরু হয় তাঁর জনপ্রিয়তার উত্থান।
বিভিন্ন বিদেশি ট্যাবলয়েডের দাবি, ভিডিওটি ২০০২ সালে ছুটিতে থাকা অবস্থায় ধারণ করা হয়েছিল। এটি প্রকাশ পাওয়ার পর দ্রুতই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওটি কীভাবে ফাঁস হলো—এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা দাবি–আপত্তি থাকলেও বিতর্ক থামেনি।
ভিডিও প্রকাশ ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি কিম। বরং সেই ঘটনার পর থেকেই বিনোদন অঙ্গনে তারকাখ্যাতি পান তিনি। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—ভিডিওটির বাণিজ্যিক সাফল্য কিমকে বিপুল আয় এনে দেয় এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকেও দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।
তবে আকস্মিক খ্যাতির এই পথে ব্যক্তিগত জীবনে চড়াই–উতরাইও কম পাড়ি দিতে হয়নি কিম কার্দাশিয়ানকে। বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে তাকে দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।