পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের মতো সব প্রতীক আর থাকছে না। নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালটে শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। এই পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে দেশের অভ্যন্তরে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের কাছে। শুক্রবার রাতে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস), সিকিউরিটি প্রিন্টি প্রেস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক রাখার বিধানও রয়েছে। প্রতীকের পাশে থাকা ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেওয়ার নিয়ম উল্লেখ রয়েছে বিধিমালায়। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাঝ বরাবর বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ছাপা হওয়ায় তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে বিএনপি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জানিয়েছেন, ওই ব্যালটের কারণে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলটির নেতারা দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেওয়ার অনুরোধ জানান। ওই অনুরোধের পর ইসি পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিল।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীক সংবলিত পোস্টাল ব্যালট ছাপার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি। অতীতের নির্বাচনে ব্যালটও তেমনি ছিল। এই ব্যালট দেশের ভেতরে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের পাঠানো হবে। বিদেশের পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এজন্য আইন বা বিধিমালায় সংশোধন আনার প্রয়োজন হবে না। পরিপত্র দিয়েই সমাধান করা যাবে। আরপিওতে পরিপত্র জারির বিধান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট চালু করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন। এতে দেশে-বিদেশে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন সরকারি চাকরিজীবী, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত, ১০ হাজার ১০ জন আনসার, ভিডিপি ও ৬ হাজার ২৮৪ জন কারাবন্দি। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে এ ব্যালটে ভোট দেবেন তারা।
ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইন পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিজাইন পরিবর্তন করতে হলে আইন বা বিধিতে কোনো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন হবে কিনা তা জানতে চায় ইসি। একই সঙ্গে নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালট ছাপতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা নিয়েও আলোচনা হয়। এতে বিজি প্রেসের কর্মকর্তারা জানান, তারা চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক পেলে ব্যালট ছাপতে ৩ থেকে ৫ দিন লাগবে। পরে সিইসির সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন চার কমিশনার। ওই বৈঠকে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনতে পরিপত্র জারি করলেই হবে বলে মনে করছে ইসি। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইনের (আরপিও) ২৭(৩) অনুচ্ছেদে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বরাদ্দ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত নির্বাচনি প্রতীক সংবলিত ব্যালটের কথা উল্লেখ রয়েছে। আর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ফরম-৭ এ পোস্টাল ব্যালটে স্থগিত রাজনৈতিক দল বাদে অন্য সব দলের প্রতীক রাখার কথা বলা হয়েছে। আর ফরম-১১ এ প্রতীকের পার্শ্বের ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেওয়ার নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আরপিওর ২৭ ধারায় পোস্টাল ব্যালটে পরিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধনকারীরা ভোট দিতে পারার কথা বলা আছে। ওই হিসাবে পরিপত্র জারি করে সমাধানের কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। আর চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। এরপরই পোস্টাল ব্যালটের কাজ শুরু করতে পারবেন ইসির কর্মকর্তারা। পোস্টাল ব্যালট প্রিন্ট হওয়ার পর ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে তা ভোটারদের কাছে পাঠানো হবে। আবার ডাক বিভাগের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো হবে। উৎস: যুগান্তর।