শিরোনাম
◈ তনুর পোশাকে চার পুরুষের ডিএনএ, তদন্তে নতুন গতি পেল পিবিআই ◈ টানা পাঁচ জয়ে রেকর্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর শেখ রহমানের: জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচন ◈ মাদক-জুয়ায় জড়িয়ে গ্রামছাড়া, শেষ পরিণতিতে প্রকাশ্যে এলো শিশু রামিসার খুনি সোহেল যত অপকর্ম ◈ শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী ◈ রাস্তার পাশে কাঁদতে থাকা দুই শিশু উদ্ধার, মা ও সৎ বাবা গ্রেপ্তার ◈ এবার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য যে সুখবর জানালো সরকার ◈ বিশ্বব্যাংকের গবেষণা: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে লোকসান গুণছে ৮৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা ◈ ‌সৌ‌দি প্রো লি‌গে চ্যাম্পিয়ন রোনাল‌দোর আল নাস্‌র ◈ ২৪ দিন পর উদ্ধার কলাবাগান থানার সেই নিখোঁজ এসআই ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক অর্জন করল বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ দুপুর
আপডেট : ২২ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষায় ২০৮ জন বহিষ্কার, অনুপস্থিত প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার

কঠোর নজরদারি ও কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবারের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা। এখন কেবল মাদ্রাসা বোর্ডের একটি পরীক্ষা বাকি আছে। এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন বা নকলের অভিযোগে মোট ২০৮ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। আর সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা মিলিয়ে পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল রুটিন ও দৈনিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪২টি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ১৫টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ১২টি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাদের লিখিত পরীক্ষা শেষ করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত ১৫টি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আগামী ২৪ মে অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে।

গত ১৭ মে অনুষ্ঠিত একটি বিষয়ের পরীক্ষার অফিসিয়াল পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।  মাদ্রাসা বোর্ডের একটি পরীক্ষাও বাকি আছে। এ দুটি বাদে বাকি ১৪ দিনের পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও অনুপস্থিতির একটি সার্বিক চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী বহিষ্কারের পাশাপাশি এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন কক্ষ পরিদর্শককেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ভালো ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার এহসানুল কবির

বহিষ্কারের সার্বিক চিত্র

সারা দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথমদিন ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় নকলের দায়ে ২ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কোরআন মাজীদ ও তাজবীদ পরীক্ষায় ৪ জন বহিষ্কার হয়। এদিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা পরীক্ষায় ১ জন কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার হন।

দ্বিতীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ এপ্রিল। ওইদিন নয়টি সাধারণ বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়। একই দিনে মাদ্রাসা বোর্ডের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১ শিক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ১০ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

৩য় পরীক্ষার দিন ২৬ এপ্রিল ইংরেজি প্রথম পত্র বিষয়ে নয়টি সাধারণ বোর্ডে ২১ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের গণিত পরীক্ষায় ১৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের গণিত-২ পরীক্ষায় ৪ জন শিক্ষার্থী নকলের দায়ে বহিষ্কার হয়।

ইংরেজি ও আরবি পরীক্ষায় হয়েছে বেশি বহিষ্কার। দেখা গেছে, ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ২৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ২৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ৭ জন এবং কারিগরি বোর্ডের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা-২ পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

৩ মে গণিত পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান-২ পরীক্ষায় ৬ জন শিক্ষার্থী নকলের দায়ে বহিষ্কার হয়।

ঢাকার পর রাজশাহী বোর্ডে সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এখন বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান আ. ন. ম. মোফাখখারুল ইসলাম
৫ মে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় ৭ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

৭ মে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এবং হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ১৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ট্রেড-১ পরীক্ষায় ২ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

১০ মে পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ৫ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের হাদিস শরীফ পরীক্ষায় ৩ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রসায়ন-২ পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

১১ মে ভূগোল ও পরিবেশ পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের আকাইদ ও ফিকহ পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

১২ মে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পৌরনীতি ও নাগরিকতা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

১৩ মে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ২ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের ইসলামের ইতিহাস পরীক্ষায় ৫ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

১৪ মে রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষায় ৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কৃষি শিক্ষা, উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় ৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়।

এছাড়া সবশেষ ২০ মে জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ বোর্ডে ১ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় ২ জন শিক্ষার্থী নকলের দায়ে বহিষ্কার হয়।

অনুপস্থিতিতে এগিয়ে ঢাকা ও রাজশাহী

সারা দেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির চিত্রটি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। তিনটি মাধ্যম মিলিয়ে ১৪ দিনে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট অনুপস্থিত ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়েই মোট অনুপস্থিতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৭৫ জন। এর বাইরে প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে (দাখিল) মোট ৫৪ হাজার ১২ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১১ হাজার ৭১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি (সংখ্যা কিছু কমবেশি হতে পারে)।

এদিকে সংখ্যার বিচারে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে বরাবরের মতো এবারও অনুপস্থিতির শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৮৫৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে অনুপস্থিত ছিল।

অনুপস্থিতির এই উদ্বেগজনক খতিয়ানে ঢাকার পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, যেখানে পরীক্ষা দিতে আসেনি ১৭ হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া অন্য সাধারণ বোর্ডগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যশোর বোর্ডে ১৫ হাজার ৪৭২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১৪ হাজার ৮৫১ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১৪ হাজার ৫১৪ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২ হাজার ২৫২ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮ হাজার ৬৮৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

অন্যদিকে সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম অনুপস্থিতির রেকর্ড হয়েছে সিলেট বোর্ডে, যেখানে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ১৬৯ জন। এর পরেই রয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, যেখানে ৮ হাজার ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে উপস্থিত হননি।

তবে সংখ্যার বিচারে ঢাকা বোর্ড শীর্ষে থাকলেও পরীক্ষার্থীর মোট অনুপাত ও শতকরা হারের দিক থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিতির হার ছিল সাধারণ বোর্ডগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। মাদ্রাসা বোর্ডে প্রতি পরীক্ষায় গড়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যেখানে সাধারণ বোর্ডগুলোতে এই হার ছিল ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে।

অনুপস্থিতির কারণ জানতে মাঠপর্যায়ে জরিপ হবে : ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ভালো ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত বছরের মতো এবারও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ পরিচালনা করা হবে। তবে এবার সেটি আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। জরিপের মাধ্যমে ড্রপআউট বা পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা হবে।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট ছাড়া অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা কঠিন। তাই বোর্ডগুলো তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে।

কোথাও অনিয়ম বা অসদুপায়ের ঘটনা ঘটলে প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে কক্ষের ভেতরে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিঞা মো. নূরুল হক

পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এখন অনুপস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে : রাজশাহী বোর্ড চেয়ারম্যান

এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের পর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বোর্ডে। বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান আ. ন. ম. মোফাখখারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকার পর রাজশাহী বোর্ডে সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এখন বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

তিনি বলেন, অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ জানতে আরও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

বাল্যবিবাহ ও বিদেশমুখিতা বড় কারণ : মাদ্রাসা বোর্ড চেয়ারম্যান

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার পেছনে বাল্যবিবাহ ও বিদেশমুখিতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিঞা মো. নূরুল হক।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, এবারের দাখিল পরীক্ষা সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে পরীক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হয়েছে। এতে শিক্ষক, পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে এবং অসদুপায়ের ঘটনাও কমেছে।

অনুপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি সামাজিক ও বাস্তব কারণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাল্যবিবাহ। অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেয় না। বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারের মেয়েদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি।

তিনি আরও বলেন, অনেক ছেলে শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কেউ কর্মক্ষেত্রে চলে যাচ্ছে, আবার কেউ বিদেশমুখী হচ্ছে। ফলে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে তারা।

নকল ও বহিষ্কারের ঘটনাগুলো পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে মাদ্রাসা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, কোথাও অনিয়ম বা অসদুপায়ের ঘটনা ঘটলে প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে কক্ষের ভেতরে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭১ হাজার

দেশজুড়ে চলমান ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে এবং সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন। অধিকাংশ বিভাগেই ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর অংশগ্রহণ বেশি।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়