শিরোনাম
◈ চার বছর পর বিধিনিষেধহীন মুক্ত পরিবেশে পহেলা বৈশাখ ◈ পহেলা বৈশাখে ইলিশের দাম চড়া ◈ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বরণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ ◈ নতুন বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ নতুন বছর মানে ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণ করা: মির্জা ফখরুল ◈ ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে সরাসরি ঢাকায় ফ্লাইট অবতরণ ◈ বিএনপি গুম-নির্যাতনের কাল্পনিক তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: ওবায়দুল কাদের ◈ সরকারি খরচে ৩০৪৮টি মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান ◈ রেল ভ্রমণে মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে: রেল মন্ত্রী  ◈ অস্ট্রেলিয়ায় শপিংমলে ছুরি হামলায় নিহত ৫, আততায়ী মারা গেছে পুলিশের গুলিতে

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৪:৩০ দুপুর
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৫:১৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে

ক্যাপসিকাম চাষে স্বাবলম্বী হৃদয় মিয়া

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: [২] জামালপুরের যমুনার মধ্যবর্তী দুর্গম চরাঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া গ্রামে ক্যাপসিকাম নামে বৈশ্বিক সবজি চাষ করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। সে ওই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে। এখন বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে ক্যাপসিকাম বিক্রি না করতে পেরে বিপাকে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা হৃদয়।

[৩] হৃদয় মিয়া ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাড়ির পাশে রূপসা ৪০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন।

[৪] সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ রঙের ক্যাপসিকাম। অধিক ফলনের আশায় ক্যাপসিকাম ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হৃদয় মিয়া। তার হাতের ছোঁয়া- যত্ন আরপরিচর্যায় ক্যাপসিকামের চারাগুলো হয়ে উঠেছে হৃষ্টপুষ্ট।

[৫] হৃদয় মিয়া জানায়, চারা রোপণের দু'মাস পর থেকেই গাছে ফল আসা শুরু হয়। ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে বীজ কেনা, জমি প্রস্তুত, সার, বালাইনাশক ও মালর্চিং পেপার কেনা এবং শেড তৈরিসহ সব মিলিয়ে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যদিও নিজেরা কাজ করায় এর মধ্যে শ্রমিকের খরচ খুব বেশি লাগেনি। চারা রোপণের আড়াই মাস পর থেকে তিনি ক্যাপসিকাম বিক্রি শুরু করেন। তবে ক্যাপসিকাম স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা যায় না। বিক্রি করতে হয়েছে ঢাকার কাওরান বাজারে। প্রতিমণ ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হয়েছে ৮ থেকে ৪  হাজার টাকায়। ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হয়েছে। এখনও খেতে তে যে পরিমাণ ফসল আছে, তাতে অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। 

[৬] জানা যায়, ক্যাপসিকাম একটি বৈশ্বিক সবজি। এটাকে মিষ্টি মরিচ নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মিষ্টি মরিচের আকার ও আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। তবে সাধারণ ফল গোলাকার ও ত্বক পুরু হয়। মিষ্টি মরিচ দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানিং এর চাষ বাড়ছে । বড় বড় শহরের আশেপাশে সীমিত পরিসরে কৃষকরা এর চাষ করে থাকেন। যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়াও মিষ্টি মরিচের বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও প্রচুর। কারণ সারা বিশ্বে টমেটোর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ। পুষ্টি মানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি বলে পুষ্টিবিদদের অভিমত। তাঁদের মতে, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

[৭] হৃদয় মিয়ার বাবা আবু সাঈদ বলেন, হৃদয় মিয়া দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে ইউটিউব দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছে। পরিপক্ক হওয়ার প্রতিটি ক্যাপসিকাম ওজন হয় আড়াইশ গ্রাম। যা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের অভাব-অনটন ঘোঁচবে বলে আশাবাদী। তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাপসিকাম সবজিটি খাওয়ায় অভ্যস্ত না থাকায় ক্যাপসিকাম স্থানীয় কোনো হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। অনেকটা বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে ঢাকার কাওয়ান বাজারে নিয়ে গিয়ে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। 

[৮] তিনি আরও বলেন, ক্যাপসিকামের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের আধুনিকায়ন পদ্ধতিতে কিছু জমিতে নাগাফায়ার মরিচ, টমেটো স্মার্ট-১২১৭, নাপসান ফুলকপি ও কিছু জমিতে বিগবস বেগুনের চাষ করেছি। কিন্তু আমাদের এলাকাটি যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য সহসায় বিক্রি করা যায় না। ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে হচ্ছে রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে। 

[৯] সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বিএসসি বলেন, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়ার ক্যাপসিকাম চাষ করা দেখে এলাকাবাসী আনন্দিত। এর আগে আমরা এ জেলায় কোথাও ক্যাপসিকামের চাষ দেখিনি। প্রথমবারের মতো এলাকায় এই চাষ হওয়ায় প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন ক্যাপসিকামের খেত দেখতে আসছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটু ক্যাপসিকাম খেত পরিদর্শন করেছেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্থানীয় কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াবে বলেও আমার বিশ্বাস।

[১০] ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এল.এম রেজুওয়ান বলেন, ক্যাপসিকাম উচ্চ মূল্যের একটি নতুন ফসল। এ উপজেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাজারে দাম ও চাহিদা ভালো হওয়ায় এ উপজেলায় আগামীতে ক্যাপসিকামের চাষ আরো বাড়বে বলে আশা করছি।

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়