শিরোনাম
◈ ১০ টাকার নোটের দাম ২০ হাজার, সুন্দরবনে দস্যুদের অভিনব চাঁদাবাজি ◈ সঙ্গীসহ বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে ◈ আট দিন ঝুপড়িতে বন্দি, পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ; কাঁচা কদু-ডাল খাইয়ে হাতে-পায়ে শিকল, যেভাবে পাহাড়ে চলত মানবপাচার ◈ এবার হবিগঞ্জে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরি ◈ পুলিশি হামলার বিচার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের ◈ কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা, সিসিটিভি নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শন বাধ্যতামূলক ◈ সরকারি দপ্তরে ঘুষ-খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান ◈ দুই দশকের বেশি সময়েও থামেনি রাজনৈতিক সহিংসতা, সরকার বদলালেও বদলায়নি সংঘাতের চিত্র ◈ সাধারণ লবণের বদলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ লবণ ব্যবহারে বছরে ৩০ লাখ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব: গবেষণা ◈ হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে বিশ্ববাজারে গুরুত্ব বাড়ছে আফ্রিকার, বাড়ছে বিনিয়োগ!

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাত্র ১৮ দিনেই ব্যবসা শুরুর সব অনুমোদন, সরকারের নতুন পরিকল্পনা

দেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন পাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করে বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় ১২টি লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদনের ১১টিই এক দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া এছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও গতিশীল করতে পূর্বশর্ত কমানো, সমান্তরাল আবেদনের সুযোগ রাখা এবং একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৯ অক্টোবর বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াগুলো ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার। তবে সভায় উপস্থাপন করা ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের (আইবি) প্রেজেন্টেশনে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে এটি ১৮ দিনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।  

Advertisement

টিবিএসের সঙ্গে আলাপকালে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমানে কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ঋণপত্র (এলসি) খোলা পর্যন্ত প্রায় এক বছর সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী বাজেটের আগেই যেন ১৪ দিনের মধ্যে নতুন ব্যবসা শুরু করা যায়, তা নিশ্চিত করা। এটি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক ও জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে।'

এক দিনেই মিলবে ১১ সেবা

উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশন অনুযায়ী, যে ১১টি সেবা একদিনের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—নামের ছাড়পত্র, নন-অপারেটিং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ইস্যুকরণ, নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) প্রাপ্তি ও বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) রেজিস্ট্রেশন।

বর্তমানে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে এই ১১টি সেবা পেতে ১৬৭ থেকে ৩২৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।

শুধু আইবি থেকে আইআরসি অনুমোদনে এক দিনের বেশি লাগবে

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শুধু আমদানি নিবন্ধন সনদের (আইআরসি) সুপারিশের ধাপটি সম্পন্ন করতে এক দিনের বেশি সময় লাগবে।

আইআরসি সনদের জন্য আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরকে (সিসিআইঅ্যান্ডই) সুপারিশ করতে হয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের (আইবি)। এই সুপারিশ করতে বর্তমানে ১০ দিন সময় লাগে আইবির। নতুন রূপরেখায় এই সময় কমিয়ে ৭ দিনে নামিয়ে আনা হবে।  আর সুপারিশ পাওয়ার পর সিসিআইঅ্যান্ডই মাত্র এক দিনের মধ্যেই শিল্পের জন্য আইআরসি ইস্যু করবে, যার জন্য বর্তমানে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হয়।

তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয় ট্রেড লাইসেন্স

সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ম্যানুয়াল ট্রেড লাইসেন্সের বদলে স্বয়ংক্রিয় বার্ষিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (বিআরসি) চালু করা হবে। একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এই সনদ দেওয়া হবে।

বর্তমানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ৭ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। প্রস্তাবিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিআরসি পেয়ে যাবেন। এতে কোনো প্রি-ইন্সপেকশন বা ম্যানুয়াল অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এখন যে হারে ফি দিতে হয়, একই পরিমাণ ফি অনলাইনে দিতে হবে এবং জমা হওয়া অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর ব্যাংক একাউন্টে যাবে।

ট্রেড লাইসেন্সের বদলে স্বয়ংক্রিয় বিআরসি দেওয়ার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বিআইএন, আইআরসি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদের (ইআরসি) আবেদনের ক্ষেত্রে এই নতুন সনদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে ব্যাংক ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের বিধিমালাও হালনাগাদ করতে হবে।

আগামী বছরের মধ্যে আরজেএসসির পুরো কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে

আরজেএসসির পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়েছে, অটোমেটেড নেইম ক্লিয়ারেন্স ও কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন  ১ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে নতুন প্ল্যাটফর্মের পাইলটিং শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে এ স্বয়ংক্রিয় সেবা পাওয়া শুরু করবেন বিনিয়োগকারীরা। 

এছাড়া নিবন্ধন-পরবর্তী ৫৪টি সেবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য অটোমেশন অ্যাকশন প্ল্যান ও রোডম্যাপ তৈরি করেছে সংস্থাটি। ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে আরজেএসসির সব সেবা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এছাড়া আরজেএসসির বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ করতে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ সংশোধন করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনুসরণ করে কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অভ আন্ডারস্ট্যান্ডিং সহজীকরণ করার কাজও চলছে। পরে আরজেএসসি পোর্টালকে বাংলাবিজ-এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ফায়ার ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ছে

প্রশাসনিক ঝামেলা কমাতে ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

অনাপত্তিপত্র ও ফায়ার লাইসেন্স ইস্যুর জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ইতিমধ্যে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। বাংলাবিজের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করতে সংস্থাটি ছয় মাস সময় চাইলেও নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করতে বলেছে কমিটি। 

সভায় উপস্থাপন করা প্রেজেন্টেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক বছর মেয়াদে ফায়ার লাইসেন্স দেয় সরকার এবং প্রতিবছর এই লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এজন্য দুটি পৃথক আবেদন করতে হয় এবং লাইসেন্স দেওয়ার আগে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দুবারের বেশি ফিল্ড ভিজিট করেন এবং মোট ৯০ দিন সময় লাগে। 

সিঙ্গাপুরে বেসরকারি প্রকৌশলীরা মাত্র তিন দিনের মধ্যে তিন বছর মেয়াদে লাইসেন্স ইস্যু করেন। আর প্রতিবছর প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করে থাকেন। 

ভারতে ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর এবং লাইসেন্স পেতে প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় লাগে।

ভিয়েতনামে আলাদা কোনো ফায়ার লাইসেন্স নিতে হয় না। দেশটির কর্তৃপক্ষ ভবনের নকশা অনুমোদন করার সময়ই অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই করে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৬ দিন সময় লাগে।

একইভাবে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ বিদ্যমান এক বছর থেকে বাড়িয়ে ক্যাটাগরিভিত্তিক ৩ বা ৫ বছর নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে গণশুনানি সম্পূর্ণ অনলাইনে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের কারিগরি পর্যালোচনা কমিটিতে খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করবে এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) অনুমোদিত ল্যাবরেটরি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করবে।

এছাড়া দ্রুততম সময়ে আইআরসি ও ইআরসি ইস্যুর জন্য ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন অর্ডার (আইআরও) সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই অর্ডার অনুযায়ী আইআরসি সনদ পেতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে পূর্বশর্ত হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে হয়। অর্ডারটি সংশোধন করে এই পূর্বশর্ত বাতিল করা হবে। পাশাপাশি আইআরসি ইস্যুকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি অটোমেটেড ও ডিজিটাইজড করা হবে।

সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ