শিরোনাম
◈ আজ বিদেশি কূটনীতিকরা ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনে যাবেন ◈ চলমান সংকটে রাজশাহীতে কৃষিখাতে দিনে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি ◈ কারফিউ শিথিল সময়ে চলবে দূরপাল্লার বাস ◈ প্রাণহানি ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব ◈ ড. ইউনূস রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস ◈ নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৩৬ কয়েদির আত্মসমর্পণ ◈ কতজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন, জানতে সময় লাগবে: শিক্ষামন্ত্রী ◈ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা বন্ধ করল আরব আমিরাত ◈ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৩, ০১:৫৮ দুপুর
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০২৩, ০১:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাজীপুরের

কাপাসিয়াকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান

বেলায়েত হোসেন শামীম, কাপাসিয়া (গাজীপুর): পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের সেই বিখ্যাত উক্তি আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটু খানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। কবির সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবনমানের এই পরিবর্তনের হাওয়া সারা দেশের ন্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়াতেও বইতে শুরু করেছে। তাঁদের মনে বইছে রঙ্গিন বাতাস, নিজের এক খন্ড জমিতে আধাপাকা বাড়ি এ যেন জীবনের সকল অশান্তি ও ক্লান্তিকে দুর করে সংসারকে নুতন করে সাজাতে মা-বাবা, স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে নিজের ঠিকানায় বেঁচে থাকার এক নতুন অবলম্বন।

"আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার" এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২২ মার্চ বাস্তবায়ন হতে চলছে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত কাপাসিয়া উপজেলা। দিবারাত্র শ্রম দিয়ে যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হতে যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রশংসিত  এ মানুষটি হলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান।

তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষের বিশেষ উপহার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া গাজীপুর জেলার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে কাপাসিয়াতে ১’শ ও ২য় পর্যায়ে ১২টিসহ মোট ১১২টি পরিবারের জন্য সেমি পাকা বাড়ি ও ২ শতাংশ করে জমি, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। এখানে না আসলে বুঝা যাবেনা যে সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কি করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, এখানকার সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সার্বিক পরিবেশ দেখলে মনে হয় ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি মহল্লা বা এলাকা। এ ছাড়া প্রত্যেকটি প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ শেষে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা রয়েছে। 

জেলার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর ৩য় পর্যায়ে ২’শ ৬টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য ৪’শ ১২ শতাংশ জমি ও ২’শ ৬ টি সেমি পাকা বাড়ি হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে। যা আগামী ২২ মার্চ হস্তান্তরের মাধ্যমে কাপাসিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের  প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানা যায়, উপজেলার দেওনা আশ্রয়ন প্রকল্পটি হচ্ছে সব চেয়ে বড় প্রকল্প। এখানকার সুবিধাভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, তাঁদের কোন জায়গা জমি ও ঘর ছিলনা। মানুষের বাড়ি ও ফুটপাতই ছিল একমাত্র অবলম্বন। আর বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের এ বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে খুব ভাল ভাবেই জীবন যাপন করছেন। এখানে সন্তানদের স্কুল ও মক্তবের লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার সুব্যবস্থাও রয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুসাইন জানান, কাপাসিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে মোট ৩’শ ১৮টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে সেমি পাকা বাড়ি ও ৬’শ ৩৬ শতাংশ জমি বিতরণ করা হচ্ছে। যেখানে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎসহ পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো নানাবিধ সুবিধা সমুহ আছে। এ ছাড়া ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের জমির বন্দোবস্ত ও রেজিষ্ট্রেশন পূর্বক প্রত্যেকের দলিল দস্তাদি সকল কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন করেছেন তাঁর অফিসের কানুনগো ও সার্ভেয়ার  যথাক্রমে নুরুল ইসলাম ও মো. রফিকুল। তিনি তাঁদের ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সম্পাদনা: অনিক কর্মকার

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়