শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:০৮ দুপুর
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:০৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ৬৪ মামলা

মামলা

মঈন উদ্দিন, রাজশাহী : আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী বিভাগীয়  বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ককটেল উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বিভাগের ৮টি জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ৬৪ মামলা দায়ের করা হয়েছে।  এসব মামলায় অন্তত দেড় হাজার আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী নগরীর মাদ্রাসা মাঠে আগামী ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে আগুন সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের নাশকতা যেন করতে পারে নেতাকর্মীরা এ কারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগও।

রাজশাহী মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করা হচ্ছে প্রতিদিনই। সমাবেশের দিনও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগরীর জিরোপয়েন্ট ও আলুপাট্টিতে অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিবেন দলের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশদ্বারগুলোতে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। সতর্ক রাখা হয়েছে পুলিশ। যেন কোনো ধরনের নাশকতা কেউ তৈরী করতে না পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই নগরী থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশে-পাশের জেলাগুলোতে বিএনপির প্রস্তুতি সভা। দলের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রস্তুতি সভাগুলোতেও হাজারও নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির কামরুজ্জামান আয়নাল বলেন, গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি সভায় দুর্গাপুরে ইউনিয়ন পর্যায়ে কয়েকটি সমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিতি ছিল। এর পর গত তিন-চার দিনে প্রশাসন থেকে আর আমাদের কোনো সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশ ১৫০-১৬০ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়ে এখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। সমাবেশ বা মিটিং-মিছিলে না যেতে হুমকি দিয়ে আসছে। দুর্গাপুরে গণসমাবেশ করায় সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুরনো মামলায়। এ কারণে অনেক নেতাকর্মী ভয়ে রাতে বাড়িতেই থাকছেন না। তবে সমাবেশের তিন আগেই আমরা রাজশাহী শহরে গিয়ে অবস্থান নিব।

বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুও বলেন, গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহীসহ সাংগঠনিক ৯ জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬৪ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তারসহ হয়রানি করা হচ্ছে। তবে রাজশাহীর সমাবেশ হবে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বড় সমাবেশ। সে লক্ষ্যে আমরা নানা প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।

বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গণসমাবেশের তিন আগেই বিএনপির নেতাকর্মীরা খাবার ও বিছানপত্রসহ পদ্মা পাড়ের মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করবেন। অনেকেই অবস্থান নিবেন পদ্মার ওপারে চরের বাড়িগুলোতে। তারা সমাবেশের দিন সকালে বা আগের দিন রাতে নৌকায় নদী পার হয়ে মাদ্রাসা মাঠে এসে জড়ো হবেন। যেন বাস ধর্মঘটের ডাক দিলেও বিএনপি নেতার্মীদের আসা-যাওয়াতে কোনো সমস্যা তৈরী না হয়।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন বলেন, ২০১৪-১৫ সালে রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসের যে জন্ম দিয়েছিল, সেটি আর করতে দেওয়া হবে না।

গণসমাবেশের নামে তারা আবারও বিভিন্ন স্থানে ককটেল হামলা চালাচ্ছে। তাদের এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে আমরাও প্রতিদিন মিটিং-মিছিল করছি। গণসমাবেশের দিনও আমরা দলীয় কার্যালের সমানেসহ নগরীর জিরোপয়েন্টে অবস্থান নিব। সমাবেশের নামে তাদের কোনোভাবেই নাশকতা করতে দেওয়া হবে না।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়