মো. আদনান হোসেন, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় চারটি বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়, আতর ও গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার রহস্যজনক ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীর বিপদে মানবিক সহায়তা করায় পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গভীর রাতে উপ জেলার বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর অগ্নি কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মোছলেহ উদ্দিনের পরিবারকে যারা সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের বাড়ি গুলোই পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর মোছলেহ উদ্দিনের বসতঘরে রহস্য জনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তার মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেছেন তার ছেলে সাজিদুল ইসলাম।
এরই মধ্যে নতুন করে চারটি বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়, আতর ও গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল বা চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ও ভুক্ত ভোগী ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন জানান, প্রতিবেশী র বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করাই যেন তাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনে এসব আতঙ্কজনক সামগ্রী রেখে গেছে বলে তারা ধারণা করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাতে ও সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হলে থানা থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি এর মধ্যে আমি জেনেছি এবং পুলিশ সেখানে পরিদর্শন করেছে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।