মিজান লিটন : চাঁদপুরে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতিতে সড়কের ঢালাই করা রাস্তার পিচ ওঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। হাতে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে ঢালাই করার রাস্তার পিচ। এতে করে এলাকাবাসীর মাঝে খুবই সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল এই সড়কটি হলো চাঁদপুর সদর উপজেলার জেলা কারাগারের দক্ষিণ দিক থেকে শাহতলীবাজার পর্যন্ত।দীর্ঘদিন পর সেই সড়কটির কাজ করে এলজিইডি।
আশা ছিল, এবার চলাচলে ভোগান্তি কমবে, টেকসই হবে যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু সেই আশা পূরণ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে নানা সংশয় ও সংকট। সংস্কার কাজ শেষ না হতেই ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ওঠে যাচ্ছে ঢালাই। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য চাপে ঢালাইয়ের অংশ গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের এমন অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
তাদের প্রশ্ন-এত টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন সড়কের ঢালাই দ্রুত নষ্ট হচ্ছে? কাজের সময় ব্যবহৃত উপকরণের মান ঠিক ছিল কি না, যথাযথভাবে ঢালাই করা হয়েছে কি না, আর তদারকিই বা কতটা হয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর চান তারা। জানা যায়, জেলা কারাগার থেকে শাহতলীবাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। সড়কের করুন অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কোনরকম জোড়া তালি দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হয়। ঢালাই উঠিয়ে দেওয়ার স্থান গুলোতে।
তবে কাজ শেষ না হওয়ার পূর্বেই ঢালাই ওঠে যাওয়ার অভিযোগটি অন্যভাবে নেন সদর উপজেলা থানা ইঞ্জিনিয়ার রাহাত আমিন। তিনি তার মতো করে কোনরকম ভাবে সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীদের একটি বুঝ দিয়ে দেয়। সম্প্রতি এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিন সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই ওঠে যাওয়ার চিত্র ও দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি-কিছু অংশের ঢালাই এতটাই দুর্বল যে, হাতের সামান্য চাপে তা গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি সংস্কারকাজ হওয়ায় তারা স্বস্তির আশা করেছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি। যানবাহন চালকরা বলেন, অনেক দুর্ভোগের পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের মান নিয়ে যে প্রশ্ন ওঠেছে, তাতে সড়কটি বেশি দিন টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ-একটি সড়ক সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই ওঠে যাওয়ার বিষয়টি শুধু সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে শেষ করা উচিত নয়; বরং কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ঢালাইয়ের পুরুত্ব, ব্যবহৃত উপকরণ এবং কাজের সময় তদারকির বিষয়গুলো যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাহাত আমিন পাটওয়ারী বলেন, শাহতলী জেলা কারাগার সড়কে ঢালাইয়ের সময় কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনুরোধে এসব স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছিল। তার ভাষ্য-এ কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। সড়কের সব স্থানই ভালো রয়েছে, তবে দু-একটি স্থানে কিছু সমস্যা আছে। তিনি সরেজমিন সড়ক পরিদর্শন করেছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধান করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আলমগীর বলেন, সড়কের যেসব স্থানে সমস্যা হচ্ছে, সেসব স্থান ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি-সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের লোক দেখানোর মতো কোনরকম ভাবে বালু দিয়ে ঢেকে দিয়েছে,কিন্তু সঠিকভাবে করা হয়নি। প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু মেরামতের আশ্বাস নয়, সংস্কার কাজে কোনো অনিয়ম বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।এলাকাবাসীর দাবি এই কাজে ঠিকাদারের পাশাপাশি প্রকৌশলীর ও গাফিলতি রয়েছে তা না হলে এমনটি কোনভাবেই হতো না।
এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্ব ও তার বহু কাজে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে প্রতিনিয়তই এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছি তারপরেও তার বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন এই দাবি সুশীল সমাজের এবং সদর উপজেলা বাসির।