ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- রাজশাহী নগরীর বহরমপুর মোড় এলাকার মো. আলী আকবর হোসাইন (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৫)।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৯। এর আগে একই ঘটনায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুস সালাম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে রামেবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে উপাচার্যের কক্ষসহ তালাবদ্ধ অন্যান্য কক্ষ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল, যুবদল ও উলামা দলের নেতারা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের কক্ষের তালা কেটে খুলে দেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে একটি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের দাবি, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, রামেবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে জড়িত অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনই বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার পর থেকে রামেবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।