শিরোনাম
◈ নেকড়ে হত্যা বৈধতার পথে ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে ৯০ দিনে ◈ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ◈ ‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার ◈ স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআইতেও কড়াকড়ি ইসির ◈ কর ফাঁকি ঠেকাতে আয়-ব্যয়ে গরমিল পেলেই ব্যবস্থা নেবে এনবিআর ◈ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান ◈ ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল : ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি ◈ সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ দিলো ভারত, পানির স্তর বাড়ল ১০ ফুট ◈ একই দলে খেলবেন মেসি-রোনালদো, পূরণ হচ্ছে ভক্তদের আশা ◈ মানুষের আইকিউ যেভাবে বাড়ানো যায়, কী বলছে গবেষণা

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লেজে দড়ি, শরীরে ক্ষত: কুয়াকাটা উপকূলে ৬ ফুটের মৃত ডলফিন

নিনা আফরিন পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি মৃত বোতলনোজ ডলফিন।

শনিবার সকালে চর গঙ্গামতি এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা। পরে বন বিভাগ, ডলফিন রক্ষা কমিটি ও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের সময় ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ডলফিনটির লেজে বাঁধা দড়ি।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সামুদ্রিক প্রাণী উদ্ধারের সময় প্রায়ই তাদের মুখ বা লেজে জালের টুকরো কিংবা দড়ি পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিবিসিএফের সহসাংগঠনিক সম্পাদক কেএম বাচ্চু বলেন, উদ্ধার হওয়া ডলফিনটি পুরুষ বোতলনোজ ডলফিন। উপকূলীয় কুয়াকাটায় বর্ষা মৌসুমে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে।

সম্প্রতি এ উপকূলে প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ চারটি তিমির মরদেহও পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাছ ধরার জালে আটকা পড়া, নৌযানের আঘাত, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য, তেল-রাসায়নিক দূষণসহ নানা কারণে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কারণ জানতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ট্রলার বা জেলেদের জালে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ডলফিন ও কচ্ছপ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। নৌযানের আঘাত ও সমুদ্রদূষণও এসব প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু বড় সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব প্রাণীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা, নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপকূলে এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে। মৃত ডলফিন বা কচ্ছপের খবর পেলে বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

উদ্ধারের পর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটির মরদেহ নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ