হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং টিটিসি নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হলে উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সালথা উপজেলা কৃষিনির্ভর এলাকা হলেও এখানে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকে কাজের সন্ধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন। আবার কেউ কেউ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন বাস্তবতায় সালথায় টিটিসি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সম্ভাবনার নতুন দ্বার হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে সাধারণত ইলেকট্রিশিয়ান, এসি ও রেফ্রিজারেশন, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, অটোমোবাইল, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকে। পাশাপাশি প্রবাসগামীদের জন্য বিভিন্ন দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।
স্থানীয়রা বলছেন, টিটিসি চালু হলে শুধু বেকারত্ব কমানোই নয়, সালথায় একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে। এতে তরুণদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থানের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, “সালথায় একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার বেকার যুবসমাজ কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।”
সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথার তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। টিটিসি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার।”
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “দক্ষ জনশক্তিই একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় শক্তি। সালথায় টিটিসি হলে স্থানীয় তরুণদের পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীরাও উপকৃত হবেন।”
বেকার যুবক আসলাম হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ খুবই সীমিত। টিটিসি চালু হলে হাতের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো কোনো কাজ কিংবা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারব।”
শিক্ষক ফায়েজুর রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, কর্মমুখী দক্ষতারও প্রয়োজন রয়েছে। সালথায় টিটিসি হলে শিক্ষিত ও বেকার তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।”
এদিকে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ টিটিসি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সালথার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “সালথায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার বেকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সালথায় টিটিসি শুধু একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়; এটি হতে পারে বেকারত্ব কমিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সালথার মানুষ।