শিরোনাম
◈ কারখানা থেকে ক্লাসরুম, রোবট বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে চীন ◈ গুম হওয়া ২৫০ জনের সন্ধান মেলেনি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর ◈ দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তা বদলি ◈ চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন নয়: হাইকোর্টের নির্দেশ ◈ মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ◈ ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা চুক্তি পর্যালোচনার আগে কেন সরব বিহার? ◈ যেভাবে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজায় দুই যুবক ◈ ‘দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব’ ◈ হাসিনাকে ঘিরে আটকে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের উদ্যোগ, অচলাবস্থা কাটবে কীভাবে? ◈ স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারে

প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল
আপডেট : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে চিংড়িতে মড়ক, আবার এসেছে হোয়াইট স্পট 

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের চিংড়ি প্রকল্পগুলোতে হোয়াইট স্পট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে চিংড়ি। সাম্প্রতিক বন্যা তার উপর অতি বৃষ্টি এই মড়কের কারণ বলছে চাষিরা।

নানা কারণে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা মৎস্য বিভাগের। তবে তাদের কাছে এখনো এরকম ক্ষতির কোন খবর নাই বলেও জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

কক্সবাজার চিংড়ির জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকায় হিসেবে পরিচিত। এখানকার বাগদা ঔ গলদা চিংড়ি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। কক্সবাজারে চিংড়ি প্রকল্পের পাশাপাশি চিংড়ি পোনা উৎপাদনের জন্য রয়েছে অর্ধশত হ্যাচারী। কক্সবাজারের হ্যাচারীর পোণাও যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

তবে চিংড়ি চাষিরা বলছেন, গত মাসের বন্যা সে সাথে অতি বৃষ্টি আর হোয়াইট স্পট রোগের কারণে মড়ক দেখা দিয়েছে চিংড়ি প্রকল্পগুলোতে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর চিংড়ি প্রকল্পের মালিক ও ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন জানান, সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে তার নিজের প্রকল্প ও আশপাশের চিংড়ি প্রকল্প গুলোতে বেশ কিছু চিংড়ি মরে গেছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আবার নতুন করে চিংড়ি পোনা ছেড়েছে প্রকল্পে।

চকরিয়া এলাকার চিংড়ি চাষী সারওয়ার কামাল জানিয়েছেন, তাদের প্রকল্পতেও ‌হোয়াইট স্পর্ট রোগে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে ‌পানির লবণাক্ততা কমে যাওয়ার ফলে কক্সবাজারের চিংড়ি প্রকল্পগুলোতে চিংড়ি মারা যায় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা চিংড়ি প্রকল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোশেদুর রহমান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় হোয়াইটস্পট দেখা যাচ্ছে। এর কারণে মারা যাচ্ছে কক্সবাজার অঞ্চলের চিংড়ি।

চিংড়িপনা উৎপাদনকারী হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, হ্যাচারি গুলোতে চিংড়ি পোনা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় যে পোনা গুলো ভালো থাকে সেগুলোই বিক্রি করা হয়।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে ৪ হাজার ৩৭৪টি চিংড়ি প্রকল্প রয়েছে। এসব চিংড়ি চাষের জমির আয়তনের পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার ৪২৮ হেক্টর।

মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, হোয়াইট স্পট রোগ হওয়ার খবর আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত আসে নাই। তবে নানা কারণে এ রোগ হতে পারে। এমনকি চিংড়ি পোনা থেকেও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে পানির লবনাক্ততা কমে যাওয়ায় চিংড়ি প্রকল্পে চিংড়ি মাছ মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মৎস কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, হোয়াইট স্পট রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই এ ব্যাপারে চাষীদের সতর্ক হওয়ার জরুরী। কক্সবাজারের চিংড়ি চাষীদের আধুনিক চাষাবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সভা সেমিনারের পাশাপাশি জেলা মৎস্য বিভাগ থেকে নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বশেষ