তপু সরকার হারুন, শেরপুরঃ শেরপুরের শ্রীবরদীতে মোফাজ্জল হক (৭০) নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ধোঁয়াশা। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, শত্রুতার জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে শ্রীবরদী উপজেলার হালুয়াহাটি এলাকায় নিজ বাড়ির পেছনের একটি গাছে মোফাজ্জল হকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালে মোফাজ্জল হকের ছেলে শেখবর আলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘জিকু পরিবার’-এর আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, জামিনে বের হয়ে আসামিরা মামলা আপস-মীমাংসা ও তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মোফাজ্জল হককে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, "আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে মেরেছিল, তারা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই আমাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছিল। আমার বাবাকে ওরাই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি এর সঠিক তদন্ত চাই।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, "আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের মাতম বিরাজ করছে। এলাকাবাসীও দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জোর দাবি জানিয়েছেন।