শিরোনাম
◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৪ ইউনিট ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ◈ চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লিগ, ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড‌কে হারা‌লো অ‌্যাত‌লে‌তি‌কো মা‌দ্রিদ ◈ ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল, পরে যা জানা গেল ◈ ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়! ◈ ইয়ে‌মে‌নের নি‌র্দেশ, সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা খালি করো, রিয়াদে পাল্টা হামলা চালা‌নো হ‌বে ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে দেশের পোশাকশিল্প: প্রবৃদ্ধির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি ◈ ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, এর ফল উল্টো হতে পারে

প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৪ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হটস্পট দাউদকান্দি : এক মাসে আক্রান্ত ৪৯৪

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনমনে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা গেলেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের কারণে দাউদকান্দি উপজেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে কুমিল্লা জেলায় মোট ৪৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে আরও ১১৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মাসে শুধু দাউদকান্দি উপজেলাতেই ১৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় দাউদকান্দির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক হওয়ায় এলাকাটিকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে, জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত জুলাই মাসে ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

Advertisement

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন,
"ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। জ্বর হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন করা যাবে না।"

তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতালের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।"

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বর্তমানে বর্ষাকালে ঝুঁকি বেশি থাকায় সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।