ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখলমুক্ত না করেই হেরিংবোন (ইটের) সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদিত নকশা, অ্যাসাইনমেন্ট ও মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সড়কটি সোজা হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজনের সরকারি জমি দখলের কারণে সেটি আঁকাবাঁকা পথে নির্মাণ করা হয়েছে। এখন একই পথে পাকা সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দখলদারদের উচ্ছেদ না করেই পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলে সরকারি রাস্তা স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার জমি দখল করে আছেন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক জোবায়েদ হোসেন এবং বজলু ও রেজাউল নামে দুই ভাই। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ২০১৮ সালে জোবায়েদ হোসেনের বাড়ির সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত এবং "জোবায়েদ হোসেন, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বাগমারা উপজেলা শাখা" লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো ছিল। সে সময় একাধিক অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরও দখল অপসারণ না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বাঁকা পথেই হেরিংবোন সড়ক নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পুনরায় ইউএনওর কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান সরেজমিন পরিদর্শন ও মাপজোক শেষে দখলদারদের ২১ দিনের মধ্যে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর ২০২১ সালে এলাকাবাসী তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন।
সর্বশেষ গত ২৯ জুন এলাকাবাসী রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে মৌজা ম্যাপ ও অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মাঝিগ্রামের বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—সরকারি জমি দখলমুক্ত করে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সোজা পাকা সড়ক নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত জোবায়েদ হোসেন, বজলু ও রেজাউলের বক্তব্যর জন্য যোগাযোগ করা হলে তাদের কাওকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তবে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সমস্যাটি অনেক দিনের। এতদিন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা আমি জানি না। তবে রাস্তা সোজা হলে এলাকাবাসীর অনেক উপকার হবে। বর্তমানে বাঁকা হওয়ার কারণে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। আগামী সমন্বয় সভায় এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের উপস্থিতিতে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।”