শিরোনাম
◈ ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কুশের’ ভয়ংকর বিস্তার, আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা ◈ সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের নির্দেশ ◈ দেশভাগের ৭৯ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত ◈ জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে ভারত: আইএমএফ ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩ ◈ মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নিয়োগ, অনুমোদন পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে বিএনপি ◈ কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ গাজীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে গার্মেন্টসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ◈ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যে জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬, ০৬:৩৩ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খাবারের সন্ধানে ঠাকুরগাঁও লোকালয়ে বন্য বানর, ভীতি কেটে মানুষের সাথে তৈরি হচ্ছে সখ্যতা

সীমান্তবর্তী জেলা শহর ঠাকুরগাঁও-এ গত প্রায় দুই বছর ধরে বন্য বানরের উপস্থিতি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শহরের আশ্রমপাড়া, মুন্সিপাড়া, গোবিন্দনগর, হাজীপাড়া ও ঘোষপাড়াসহ একাধিক আবাসিক এলাকায় এসব বানর নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। খাবারের সন্ধানে তারা প্রায়ই ঢুকে পড়ছে মানুষের বাড়িঘর, এমনকি হাসপাতাল চত্বরেও।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বন্য বানরের আগমনে শুরুতে এলাকায় কিছুটা ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই আতঙ্ক অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে অনেক জায়গায় বানর দেখলেই মানুষ কৌতূহল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন, কেউ কেউ ছবি ও সেলফিও তুলছেন।

পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, রোববার (১৪ জুন) ভোরে একটি বানর এলাকায় আসে। প্রথমে শিশুরা ভয় পেলেও পরে দোকান থেকে কলা ও পাউরুটি কিনে খাওয়ানো হয়। দুপুর পর্যন্ত এটি এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখন বানরকে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য সাধারণ হয়ে উঠেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়রাও নিজেদের পকেট খরচ করে কলা, বিস্কুট ও পাউরুটি কিনে দিচ্ছে এসব বন্যপ্রাণীকে। বানরগুলোও মানুষের দেওয়া খাবার শান্তভাবে গ্রহণ করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের মানবিক সম্পর্ক তৈরি করেছে।

Advertisement

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবুর রহমান বলেন, অনেকে বানরটিকে কলা, আম, পাউরুটি ও বিস্কুট খাওয়ায়। খেয়ে তৃপ্ত হয়ে এটি আবার নিরাপদে চলে যায়।

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও বানরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে প্রায়ই একটি বানর আসে এবং ফেলে দেওয়া খাবার খেয়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, খাদ্য সংকটের কারণে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে এসব বানর লোকালয়ে চলে আসছে। কারও কারও মতে, সীমান্ত পেরিয়েও এসব প্রাণী আসতে পারে। এর আগে এই অঞ্চলে হায়েনা, মেছো বাঘ, ময়ূর, নীলগাই ও গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।

বর্তমানে শহরবাসী বানরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ যাতে এদের আঘাত না করে এবং দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম হেলাল জানান, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। বানরগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ